কৃষিবিদ মনিরুজ্জামান বাবুল : ২৯ সেপ্টেম্বর: “Don't Miss a Beat” – একটি বিট মিস করবেন না । আজকের বিশ্ব হার্ট দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হলো ব্যক্তির অভ্যাস, মানসিক চাপ এবং ঝুঁকির দিকে নজর রাখা। এটি মানুষকে উৎসাহিত করে যাতে তারা তাদের শরীরের পাঠানো কোনো সূক্ষ্ম সংকেত উপেক্ষা না করে। সার্বজনীন সচেতনতার লক্ষ্যে সমগ্র বিশ্বে চিকিৎসক ও নন-মেডিকেল ফোরামে আজ হৃদরোগ নিয়ে বিস্তর আলোচনা হচ্ছে।
বাস্তব ঘটনা: সতর্কতার আহ্বান
কিছুদিন আগে রাজশাহী থেকে ঢাকামুখী একটি রাতের কোচে কয়েকজন চিকিৎসক যাচ্ছিলেন সেমিনারে অংশ নিতে। তাদের মধ্যে একজন খ্যাতিমান হৃদরোগ বিশেষজ্ঞও ছিলেন। ভোরে গন্তব্যে পৌঁছে দেখা গেল, ওই বিশেষজ্ঞের ঠিক পিছনে বসা এক চিকিৎসক নড়ছেন না। পরে জানা গেল, তিনি হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। আশ্চর্যের বিষয়—তার এত কাছে একজন হার্ট স্পেশালিস্ট থাকা সত্ত্বেও মৃত্যু ঠেকানো যায়নি।
ঘটনাটি প্রমাণ করে, হৃদরোগ প্রতিরোধে চিকিৎসার চেয়ে পূর্ব প্রস্তুতি ও সচেতনতা বেশি জরুরি।
হৃদরোগের পরিসংখ্যান
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্যানুযায়ী, প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ হৃদরোগ ও স্ট্রোকে মারা যান, যা পৃথিবীর মোট মৃত্যুর প্রায় ৩২%। বাংলাদেশেও ২০২৩ সালে হৃদরোগে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ২ লাখ মানুষ (সূত্র: ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ)।
এ বাস্তবতা বিশ্ব হার্ট দিবসকে আরও প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে। এবারের প্রতিপাদ্য হতে পারে—“Healthy City, Healthy Life, Healthy Environment, Healthy Heart”।
হেলদি সিটি: হৃদয়ের জন্য নগর পরিকল্পনা
শহর যদি শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য প্রতিকূল হয়, হৃদয় কখনো নিরাপদ থাকবে না।
পার্ক, খেলার মাঠ ও হাঁটার পথ তৈরি করতে হবে।
সাইকেল লেন ও গণপরিবহন বাড়ালে যানজট ও দূষণ কমবে।
ধূমপানমুক্ত অঞ্চল নিশ্চিত করতে হবে। WHO জানিয়েছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন
হেলদি লাইফ:
খাদ্যাভ্যাস ও
জীবনধারায় পরিবর্তন
হৃদয় রক্ষার মূল চাবিকাঠি। অধ্যাপক ডা মজিবর রহমান সেলিম টিএমএসএসের হার্ট সেন্টার এর পরিচালকের এ উদ্বৃতি একানে প্রণিধানযোগ্য।
প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম অপরিহার্য।
লবণ, চিনি ও তেলে ভাজা খাবার কমিয়ে আঁশযুক্ত খাবার, ফল ও শাকসবজি খেতে হবে।
মানসিক চাপ কমাতে প্রার্থনা, ধ্যান ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো কার্যকর
হেলদি এনভায়রনমেন্ট: সুস্থ পরিবেশ
সবুজ পরিবেশ ছাড়া সুস্থ হৃদয় অসম্ভব।
শহরে বিশুদ্ধ পানি ও পরিষ্কার বায়ু নিশ্চিত করতে হবে।
শিল্পকারখানার দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও বৃক্ষরোপণ বাড়ানো জরুরি।
স্থানীয় সরকারকে হৃদয়বান্ধব নগরনীতি গ্রহণ করতে হবে।
হেলদি হার্ট: লক্ষ্য ও করণীয়
বিশ্ব হার্ট ফেডারেশন জানায়, সচেতনতা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে প্রায় ৮০% হৃদরোগজনিত অকাল মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন কমিউনিটি কেয়ারিং বেইসড ইনিশিয়েটিভ—যেখানে পরিবার, স্কুল, কর্মক্ষেত্র ও রাষ্ট্র একসাথে কাজ করবে।
সুস্থ হৃদয় মানেই সুস্থ জীবন, আর সুস্থ জীবন মানেই সমৃদ্ধ সমাজ।
“নির্মল জীবনের জন্য সুস্থ হৃদয়!
শিল্প নগরী শিক্ষা নগীর পেরিয়ে, আজকের চাওয়া—‘হেলদি সিটি হউক আগামীর রাজশাহী’।
লেখক : গবেষক, কমিউনিটি কেয়ার ফাউন্ডেশন বেইসড একটিভিস্ট , উদ্যোক্তা, মমতা নার্সিং ইনস্টিটিউট, রাজশাহী