৬ ভাদ্র, ১৪৩৩
২১ আগস্ট, ২০২৬
চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

‘২০ কোটি মানুষের হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তর করতে চাই’

Admin Published: August 9, 2026, 5:51 pm
‘২০ কোটি মানুষের হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তর করতে চাই’

ডিএনএন ডেস্ক: বিএনপির ক্ষমতার উৎস জনগণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের সমর্থন থাকলে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনশীল শক্তিতে পরিণত করে কৃষি, শিল্প ও কর্মসংস্থানে বড় পরিবর্তন আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।তারেক রহমান বলেন, আমরা ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তর করতে চাই। আমাদের কাজ করতে হবে। ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। শিল্পের বিপ্লব ঘটাতে হবে।রবিবার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া সমুদ্রপাড়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়েক দিন আগে অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাঁশখালীতেও অনেকে ঘর হারিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর অংশ হিসেবে ১০০টি নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হচ্ছে। পাশাপাশি দুঃস্থ নারীদের চাল দিয়ে সহায়তা করা হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা। মা-বোনদের সহায়তা, সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ, মানুষের চিকিৎসাসেবা এবং তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।


ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারীদের স্বাবলম্বী করতে নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়েছিল এবং সেটি শেষ হয়েছে।


প্রধানমন্ত্রী জানান, চলতি মাসের ১৬ তারিখ থেকে ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম শুরু হবে। এ বছর সারা দেশে প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বাঁশখালী উপজেলায় আগামী অর্থবছরের মধ্যে ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবারের হাতে এ কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। পরবর্তী চার বছরেও কর্মসূচি চলবে।


তারেক রহমান বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষক কার্ডের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো পরিবারের পুরুষ সদস্যদের পাশাপাশি নারীদেরও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করা, যাতে তারা সংসারের দায়িত্ব নিতে পারেন, সন্তানদের লেখাপড়া ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারেন।


বাঁশখালীর লবণচাষিদের বিষয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, লবণের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এমন মূল্য নির্ধারণ করা হবে, যাতে লবণচাষিরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন। শিগগিরই নির্ধারিত মূল্য জানিয়ে দেওয়া হবে।


সমুদ্রকে বাংলাদেশের বড় সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দেশের বিশাল সমুদ্রসীমা কীভাবে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজে লাগানো যায়, সেটাই এখন বড় পরিকল্পনার বিষয়।


তিনি বলেন, আজ আমি মাতারবাড়ি গিয়েছিলাম, পুরো মাতারবাড়ি দেখে আসলাম। মীরসরাই থেকে শুরু করে সমগ্র অঞ্চল হেলিকপ্টারে দেখেছি। কেন দেখেছি? কারণ এই যে আমাদের সামনে বিশাল সমুদ্র, এটি হচ্ছে বাংলাদেশের সম্পদ। এই সমুদ্রের মালিক বাংলাদেশের জনগণ।


মীরসরাই থেকে মাতারবাড়ি পর্যন্ত শিল্পকারখানা গড়ে তুলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।


চট্টগ্রামের চায়না ইকোনমিক জোনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, চীনে সফরের সময় বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। চট্টগ্রামে চীনা বিনিয়োগের মাধ্যমে কয়েকশ শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এসব কারখানায় চট্টগ্রামসহ দেশের মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথও প্রসারিত হবে।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিল্পায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পাশাপাশি অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ করা হবে।


স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার দেশের ৫০৩টি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের জন্য দেশে শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।


এ সময় জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায় তাদের বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বিভ্রান্তকারীরা সুযোগ পেলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ মানুষ।