ডিএনএন ডেস্ক: রাজশাহীর শিরোইল বাস টার্মিনাল এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় যুবদল নেতা মো. নিজাম আলীকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ এবং বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি রবিউল ইসলামের প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় নগরীর সাহেব বাজার জিরোপয়েন্টে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এতে ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত ২৩ এপ্রিল শিরোইল বাস টার্মিনালে বাস মালিক সমিতি ও মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার মামলার চার্জশিটে যুবদল নেতা মো. নিজাম আলীর নাম না থাকা এবং তিনি ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকা সত্ত্বেও ২৫ এপ্রিল রাতে তাকে বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার করে বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ।
বক্তারা অভিযোগ করেন, টাকার বিনিময়ে প্রকৃত আসামিকে আড়াল করে নিরপরাধ ব্যক্তিকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তারা দাবি করেন, বিস্ফোরক মামলার প্রকৃত আসামি ‘ড্রাইভার মিজানকে’ রক্ষা করতে গিয়ে পুলিশ অন্য এক মিজানকে গ্রেপ্তার করেছে, যিনি পেশায় টিকিট মাস্টার ও স্থানীয় যুবনেতা। এমনকি মামলার বাদী নিজেই থানায় উপস্থিত হয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে প্রকৃত আসামি নন বলে নিশ্চিত করলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ তোলেন তারা।
এ ঘটনায় বোয়ালিয়া থানার ওসি রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ এনে তাকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান বক্তারা। একই সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃত যুবদল নেতা মো. নিজাম আলীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন তারা।
মানববন্ধন থেকে আন্দোলনকারীরা রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে ঘটনার জবাব দাবি করেন এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওসিকে প্রত্যাহার না করলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার দায় প্রশাসনকে নিতে হবে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন দপ্তর সম্পাদক মো. সৈকত পারভেজ, আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ তপন, সদস্য মো. মানিক হোসেন, সদস্য মো. শুভ, সদস্য মো. মিলন আলী, সদস্য মো. শিমুল হোসেন, সদস্য মো. হাফিজসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা। এছাড়া ভুক্তভোগী মোছা. সুমি খাতুন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ জনগণ অংশ নেন।