রাবি প্রতিনিধি : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আইসিটি সেন্টারের পরিচালকের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করার অভিযোগ এনে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে পদত্যাগ দাবি করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলাম শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী সালাউদ্দিন আম্মার।
আজ বুধবার (৮ জানুয়ারি) দুপুর ১২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসন ভবনের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ দাবি জানান।এসময়ের মধ্যে
পদত্যাগ না করলে তিনি কঠোর আন্দোলনের ডাক দেয়ার হুশিয়ারি দেন।
প্রতিবাদ সমাবেশে সালাউদ্দিন আম্মার অভিযোগ করেন, পোষ্য কোটা পুনর্বহালের দাবির আন্দোলনের সময় লিফলেট আকারে তার ভর্তি ফরম ফটোকপি আকারে বিলি করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এর পেছনে আইসিটি সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক সাইফুল ইসলামের হাত রয়েছে। তিনিই এই গোপন ও গুরুত্বপূর্ণ ফরম ফাঁস করেছেন। এতে একদিকে যেমন যিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন অপরদিকে সামাজিকভাবেও তিনি হেয় এবং প্রতিপন্নতার শিকার হয়েছেন। এমন অসাধু লোক এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকতে পারে না। এসময় অনতিবিলম্বে এই কর্মকর্তার পদত্যাগ দাবি করেন আম্মার।
এ বিষয়ে সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির ফরমে আমার ব্যক্তিগত তথ্যসমূহ রয়েছে। সেটি আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ফটোকপি করে লিফলেট আকারে বিতরণ করছেন। আইসিটি সেন্টারের ষড়যন্ত্রের কারণেই আমার ব্যক্তিগত তথ্য বাইরে ফাঁস হয়েছে। আইসিটি সেন্টারে আমাদের সকল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষিত থাকে। সেখান থেকে কিভাবে তথ্য ফাস হচ্ছে?
তিনি আরও বলেন, আমি শিক্ষার্থীদের পক্ষে আন্দোলন করেছি বলে আমার তথ্য ফাঁস হয়েছে। এরপর যেকোনো যৌক্তিক আন্দোলনে আন্দোলনকারীর তথ্য আইসিটি সেন্টার থেকে ফাঁস হতে পারে।এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনায় আমি আইসিটি সেন্টারের পরিচালক সাইফুল ইসলামের পদত্যাগ দাবি করছি। পাশাপাশি তাকে এক নম্বর আসামি করে আমি অফিসার সমিতিসহ সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে মামলা করব।
অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক সাইফুল
ইসলাম বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে অবগত নই। এছাড়া ভর্তি ফরমের তথ্য তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। আইসিটি সেন্টার ছাড়াও প্রক্টর অফিস, জনসংযোগ দপ্তর ও অন্যান্য দপ্তরে এটার এক্সেস দেওয়া আছে। তারা চাইলে এটা ব্যবহার করতে পারেন। এটা শুধুমাত্র আইসিটি সেন্টারের ইস্যু নয়।অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘আমরা অভিযোগকারী শিক্ষার্থীকে প্রক্টর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযোগ পেলে আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।প্রক্টর দপ্তরে ভর্তি তথ্যের এক্সেস থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কোনো এক্সেস প্রক্টর দপ্তরের আছে কি-না আমার জানা নেই। তবে না থাকার সম্ভাবনাই বেশি। শিক্ষার্থীদের এসব ভর্তি ফরম সংক্রান্ত বিষয়ের সাথে সাধারণত ডিন¯ অফিস ও শিক্ষার্থীদের বিভাগের সংশ্লিষ্টতা থাকে।
এ ঘটনায় প্রক্টর দপ্তরের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
জানা যায়, গত বৃহ¯পতিবার শিক্ষার্থীদের কঠোর দাবির মুখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় পোষ্য কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব। এরপর কোটা পুর্নবহালের দাবিতে কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গত সোমবার থেকে মানববন্ধন ও অবস্থান ধর্মঘটের পর আজ তৃতীয় দিনের
মত পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করছিলেন তাঁরা। এ সময় কর্মসূচিতে উপস্থিত সদস্যদের মাঝে সালাউদ্দিন আম্মারের ভর্তির ফরমের ফটোকপি লিফলেট আকারে বিলি করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আম্মারের ভর্তি পরীক্ষায় মেধাস্থান ও তার ব্যক্তিগত তথ্য ফরমে ছিলো। এরই প্রতিবাদে আম্মার তার বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
সার্বিক পরিস্থিতির ব্যাপারে উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব বলেন, আমি এই মুহূর্তে রাজশাহীর বাইরে অবস্থান করছি। আমি ফিরে এসে বিষয়টি দেখব। সাইফুল ইসলামের পদত্যাগের দাবির বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ‘এখন কতজন কত দাবির উপরেই চলছে! এখন আমি নিজে বিষয়টি যাচাই না করে কোনো রকম মন্তব্য করতে পারছি না।