৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
১৭ মে, ২০২৬

রাবিতে ছাত্রলীগের নেত্রীর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের হুমকির অভিযোগ, নিরাপত্তার আবেদন

Admin Published: October 27, 2024, 7:21 pm
রাবিতে ছাত্রলীগের নেত্রীর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের হুমকির অভিযোগ, নিরাপত্তার আবেদন

রাবি প্রতিনিধি:সদ্য নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেত্রীর বিরুদ্ধে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আজ রোববার ( ২৭ অক্টোবর) অভিযোগকারী শিক্ষার্থী নিজের ও তার ব্লকের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। আবেদনপত্রে ওই হলের ১২ জন শিক্ষার্থী স্বাক্ষর করেছেন।

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেত্রী হলেন হল শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আশা খাতুন। আর অভিযোগকারী শিক্ষার্থী হলেন ওই হলের নিচতলার আবাসিক শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাসিমা আক্তার নূপুর।

লিখিত আবেদনপত্রে নাসিমা উল্লেখ করেন, প্রায় ২ মাস ধরে ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আশা খাতুন বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা হলের বি ব্লকের ১১৭ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছেন। ছাত্র আন্দোলনের পর ছাত্রলীগের সকলকে হল থেকে বের হওয়ার জন্য সতর্ক করার পরও সে হলের কোনো এক কর্মকর্তার সহায়তায় পাঁচ তলার ৫১০ নম্বর কক্ষ থেকে নিচতলার ১১৭ নম্বর কক্ষে উঠে। এরপর থেকে রুমে গণরুমের দুইজন জুনিয়র মেয়েকে নিয়ে অনবরত তিনবেলা সিগারেটসহ নানা নেশাদ্রব্য সেবন করছিলেন। এছাড়াও রুমে উচ্চ শব্দে গান বাজায়। এমতাবস্থায় গত ৭ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১০ টার দিকে তার রুমে গাঁজার গন্ধ পাওয়া গেলে ব্লকের শিক্ষার্থীরা সবাই মিলে হল সুপার ও একজন আয়াকে নিয়ে তার কক্ষে নক করেন। কিন্তু সে প্রায় ১০ মিনিট পরে কক্ষের দরজা খোলে। তখন গিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের নেশাগ্রস্থ অবস্থায় পায়। তারপর ব্লকের সবাই মিলে হলের প্রাধ্যক্ষ ম্যামের কাছে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানান। এর ফলে আশা খাতুন শিক্ষার্থীদের সবাইকে হুমকি দিতে শুরু করে। তাদের নামে মানহানির মামলা দেওয়ার ভয় দেখান। 

আবেদনপত্রে আরও উল্লেখ করেন, গত ২৩ অক্টোবর হলের ভেতরে আশা খাতুন অভিযোগকারী শিক্ষার্থী নাসিমার নাম, বিভাগ, শিক্ষাবর্ষ ইত্যাদি জিজ্ঞেস করেন। তিনি না বলতে চাইলে তাকে ঝাড়ি দেন অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেত্রী। পরে ভয় পেয়ে বলতে বাধ্য হন তিনি। তিনি জানান, এ ঘটনার আগে থেকেই তিনি মানসিকভাবে প্রচন্ড অসুস্থ। কিছুদিন আগেই আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। এই দিনের ঘটনার পরে ভয়ে তিনি ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে আছেন।

এ ঘটনায় লিখিত আবেদনে অভিযোগকারী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে নিজের ও তার ব্লকের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেত্রীকে হল থেকে বিতাড়িত করার দাবি করেন তারা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগ নেত্রী আশা খাতুনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এ ঘটনায় অভিযোগকারী শিক্ষার্থী নাসিমা আক্তার নূপুর বলেন, ছাত্রলীগ নেত্রী আশা খাতুনের বিরুদ্ধে হল প্রাধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ করলে তিনি আমাদের মানহানির মামলা দেওয়ার হুমকি দেন। এছাড়া তার এসব কর্মকান্ডের বিষয়ে আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে 'রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার' নামে গ্রুপে যখন একটা পোস্ট করি, তিনি আমাকে সাইবার ক্রাইমের মামলা দেওয়ার ভয় দেখান। একটা নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য হয়ে সে কিভাবে আমাদের ক্ষমতার ভয় দেখান? এসবের পরে আমরা চাই তাকে হল থেকে বিতাড়িত করা হোক।

এ বিষয়ে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক লাভলী নাহার বলেন, শিক্ষার্থীরা প্রথম যেদিন আমার কাছে অভিযুক্তের বিষয়ে অভিযোগ করেন তখন ব্যবস্থা নিবো বলে শিক্ষার্থীদের জানায়। পরে অভিযোগ যাচাই-বাছাই করার জন্য হল সুপার, হলের আবাসিক শিক্ষক এবং একজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করি। যারা দুই পক্ষের সাথে কথা বলবে। তারপর ঘটনার সত্যতা খুজে বের করবে। কিন্তু সেই কমিটি এখনো আমাকে এ বিষয়ে কিছু অবগত না করায় এখনো কোনো ব্যবস্থা নিতে পারিনি। আর শিক্ষার্থীরা যখন নিরাপত্তার আবেদন করেছে আমি আবাসিক শিক্ষককে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বলেছি।

সার্বিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান বলেন, আমি আজ ওই শিক্ষার্থীর অবেদনপত্রটি পেয়েছি। সে ছাত্রলীগের একজন নেত্রীর বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ এনে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছে। নিরাপত্তার ব্যাপারে আমরা হল প্রাধ্যক্ষের সাথে কথা বলব বলে আস্বস্ত করেছি। এখন অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখব। যদি কেউ সত্যিই এ ঘটনায় দোষী প্রমাণিত হয় তাহলে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিব।