ডিএনএন ডেস্ক: ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের পোস্টার বয় নেইমার জুনিয়র আবারও খবরের শিরোনামে, তবে এবার পায়ের জাদুতে নয় বরং মাঠের বাইরের এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কে। জাতীয় দলে ফেরার লড়াই যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঠিক তখনই রেফারির বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করে বড় ধরনের আইনি মারপ্যাঁচে জড়িয়ে পড়েছেন এই ফরোয়ার্ড।
ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি অনুযায়ী, রেকর্ড ৫ থেকে ১২ ম্যাচের দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে পারেন ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা।
সম্প্রতি সান্তোসের জার্সিতে রেমোর বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় পায় নেইমারের দল। ম্যাচে দারুণ পারফরম্যান্স করলেও শেষ বাঁশি বাজার পর নেইমারের আক্রমণাত্মক আচরণ সবকিছুকে ম্লান করে দেয়।
ম্যাচের রেফারি সাভিও পেরেইরা সাম্পাইওর একটি সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পেরে ম্যাচ পরবর্তী সাক্ষাৎকারে ক্ষোভ উগড়ে দেন তিনি। নেইমার দাবি করেন, তাকে পেছন থেকে ফাউল করা সত্ত্বেও উল্টো তাকেই হলুদ কার্ড দিয়ে বুকিং করেছেন রেফারি।
বিতর্কের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নেইমারের ব্যবহৃত ভাষা। রেফারিকে আক্রমণ করতে গিয়ে নেইমার বলেন, সাভিও হয়তো আজ পিরিয়ড চলাকালীন অবস্থায় মাঠে এসেছেন।
এরপর হাসতে হাসতে তাকে 'ডি চিকো' শব্দবন্ধটি ব্যবহার করতে দেখা যায়, যা পর্তুগিজ ভাষায় ঋতুস্রাবকে ইঙ্গিত করে। এটি অত্যন্ত নেতিবাচক ও বৈষম্যমূলক শব্দ হিসেবে গণ্য হয়।
ইএসপিএন ব্রাজিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার এই মন্তব্যকে লিঙ্গবৈষম্যমূলক এবং চরম অবমাননাকর হিসেবে দেখছে কর্তৃপক্ষ।
ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ডিসিপ্লিনারি কোর্টের কঠোর নিয়ম অনুযায়ী, নেইমারের এই আচরণ বড় শাস্তির দাবিদার। অতীতে ব্রাগান্তিনোর ডিফেন্ডার গুস্তাভো মার্কেস একজন নারী রেফারিকে নিয়ে একই ধরনের বৈষম্যমূলক মন্তব্য করে ১২ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন।
সেই একই মানদণ্ড যদি নেইমারের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়, তবে তাকে দীর্ঘ সময়ের জন্য মাঠের বাইরে থাকতে হবে।
এই নিষেধাজ্ঞা নেইমারের ক্যারিয়ারের জন্য এক বিশাল ধাক্কা হতে পারে। কার্লো আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিল জাতীয় দলে ফেরার জন্য যখন তিনি মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন, ঠিক তখনই এমন অনভিপ্রেত বিতর্ক তার বিশ্বকাপ খেলার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ালো।
২০২৩ সাল থেকে নেইমার সেলেসাওদের হয়ে মাঠে নামেননি। দীর্ঘদিনের চোট ও ছন্দহীনতা কাটিয়ে ফেরার লড়াইয়ে থাকা এই তারকার জন্য সম্ভাব্য ১২ ম্যাচের অনুপস্থিতি জাতীয় দলে তার দরজা চিরতরে বন্ধ করে দিতে পারে।