স্টাফ রিপোর্টার : তারুণ্যের উৎসব উদযাপন উপলক্ষে প্রাণবন্ত পরিবেশের মধ্য দিয়ে রাজশাহীর পবা উপজেলায় শুরু হয়েছে ‘ইউএনও কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট। বুধবার বিকেলে নওহাটা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে টূর্নামেন্ট উদ্বোধন করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত আমান আজিজ। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মহিনুল হাসান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাঠজুড়ে ছিল কিশোর-তরুণদের উচ্ছ্বাস, স্থানীয় দর্শকদের উৎসাহ এবং খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে এক উৎসবমুখর পরিবেশ। পবা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এবারের টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে উপজেলার দুইটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়ন পরিষদসহ মোট দশটি দল। স্থানীয় পর্যায়ে তরুণদের দক্ষতা ও প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতা চলবে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত। সেদিন অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ, যেখানে চ্যাম্পিয়ন দলকে পুরস্কার এবং ট্রফি প্রদান করা হবে।
উদ্বোধনী খেলায় মুখোমুখি হয় পারিলা ও হরিয়ান ইউনিয়ন ফুটবল দল। খেলার শুরুতেই দুই দলের সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে মাঠ উত্তাল হয়ে ওঠে। খেলোয়াড়দের দারুণ পাসিং, আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে পুরো মাঠজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীরাও খেলাটি উপভোগ করতে মাঠের চারপাশ ঘিরে ভিড় জমিয়েছিলেন।
উদ্বোধনী বক্তৃতায় ইউএনও আরাফাত আমান আজিজ বলেন,“তরুণরা জাতির ভবিষ্যৎ। তাদের সুস্থ-সুন্দর বিকাশ নিশ্চিত করতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে আমরা তরুণদের মাদকাসক্তি ও মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে রাখতে চাই। মাদকমুক্ত, উন্নত ও মানবিক সমাজ গঠনে খেলাধুলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পবা উপজেলার প্রতিটি তরুণ যেন খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতা ও শৃঙ্খলা বিকাশে উদ্বুদ্ধ হয়—এটাই আমাদের লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন,“উপজেলা প্রশাসন শুধু খেলাধুলা নয়, প্রতিটি তরুণের ইতিবাচক বিকাশের জন্য বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ইউএনও কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট তারই একটি অংশ।
তিনি বলেন, খেলাধুলা তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্থানীয় পর্যায়ে এমন টুর্নামেন্ট তরুণদের মেধা বিকাশে শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে। তরুণদের দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও মনোবল বৃদ্ধি করতে এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন হড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, পারিলা ইউপি চেয়ারম্যান সাঈদ আলী, হরিয়ান ইউপি চেয়ারম্যান ছাবের হোসেন, দর্শনপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের মো. আজাদ আলী, দামকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোখলেসুর রহমান পালু, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোতাহার হোসেন, প্রকৌশলী মকবুল হোসেন, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী আবু বাশির, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এমএ মান্নান, নির্বাচন কর্মকর্তা মতিউর রহমান, বিআরডিবি কর্মকর্তা শামসুন্নাহার প্রমুখ।