৮ বৈশাখ, ১৪৩৩
২১ এপ্রিল, ২০২৬

ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ঋত্বিক ঘটকের রাজশাহীর পৈতৃক বাড়ি

Admin Published: August 14, 2024, 8:07 pm
ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ঋত্বিক ঘটকের রাজশাহীর পৈতৃক বাড়ি

স্টাফ রিপোর্টার : প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ঋত্বিক কুমার ঘটকের রাজশাহীর পৈতৃক বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ সাংস্কৃতিককর্মীরা। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, যাঁরা এই বাড়ি ভাঙার সঙ্গে জড়িত তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঋত্বিক ঘটক জীবনের শৈশব, কৈশোর ও তারুণ্যের একটি সময় কাটিয়েছেন রাজশাহী নগরীর মিয়াপাড়া এলাকায় তাঁর পৈতৃক বাড়িতে। এই বাড়িতে থাকার সময় তিনি রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল ও রাজশাহী কলেজে পড়াশোনা করেছেন। তাকে ঘিরেই তখন রাজশাহীতে সাহিত্য ও নাট্য আন্দোলন বেগবান হয়।

এই বাড়িতে থেকেছেন ঋত্বিক ঘটকের ভাইঝি বরেণ্য কথাসাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবীও। এই বাড়ির ৩৪ শতাংশ জমি ১৯৮৯ সালে সরকার রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজকে ইজারা দেয়।

এরপর জায়গাটির উত্তরে গড়ে তোলা হয়েছে হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের আধুনিক ভবন। এ ভবনের দক্ষিণ অংশে ঋত্বিক ঘটকের স্মৃতিবিজড়িত পুরোনো বাড়ির ঘরগুলো দাঁড়িয়ে ছিল। তবে ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর শিক্ষার্থীদের ওপর দোষ চাপিয়ে হোমিওপ্যাথিক কলেজের অধ্যক্ষ আনিসুর রহমান পুরোনো স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঋত্বিকের বাড়িটি ভেঙে ফেলে জায়গাটি অন্য কাজে ব্যবহারের চেষ্টা কলেজ কর্তৃপক্ষ। ২০২০ সালে সাইকেল গ্যারেজ তৈরির জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ ঋত্বিক ঘটকের পৈতৃক বাড়ি ভেঙে ফেলছে-এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। এরপর সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় বাড়িটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়। জেলা প্রশাসন পুরোনো বাড়িটি আগের অবস্থায় সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এর মধ্যেই গত ৬ ও ৭ আগস্ট বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বুধবার দুপুরে রাজশাহীর সাংস্কৃতিককর্মীরা বাড়িটি সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত দেওয়া কাগজপত্র নিয়ে বাড়িটিতে যান। এ সময় কলেজ কর্তৃপক্ষ তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করলে হট্টগোল শুরু হয়। পরে অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে বেরিয়ে সাংস্কৃতিককর্মীরা জেলা প্রশাসকের কাছে যান। এর আগে তাঁরা সাংবাদিকদের বলেন, অধ্যক্ষ এটি ভাঙলে তাকে পদত্যাগ করতে হবে।

চলচ্চিত্র নির্মাতা তাওকীর ইসলাম শাইক বলেন, ‘আমরা গতরাতে ঋত্বিক ঘটকের বাড়ি ভেঙে ফেলার খবর পাই। এসে দেখি সব ভেঙে ফেলা হয়েছে। আমরা আগেও দেখেছি, কলেজ কর্তৃপক্ষ এটা ভাঙার পাঁয়তারা করেছে। আমরা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নিয়েছি। আমরা দেখব, এটা কারা ভেঙেছে। যদি কলেজ কর্তৃপক্ষ ভাঙে তাহলে অধ্যক্ষকে পদত্যাগ করতে হবে।’

যুব সংগঠন ইয়ুথ অ্যাকশন ফর সোশ্যাল চেঞ্জ-ইয়্যাসের সভাপতি সামিউল আলিম বলেন, ‘এর আগে যখন বাড়িটি ভাঙার উদ্যোগ নেওয়া হয় তখন আমরা মাঠে নেমেছিলাম। দাবি করেছিলাম, এটা হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

গবেষক ওয়ালিউর রহমান বাবু বলেন, ‘ঋত্বিক ঘটক এ বাড়িতে অনেকটা সময় কাটিয়েছেন। পরবর্তীতে তিনি কলকাতা চলে গেলেও আমরা তাঁকে ধারণ করি। এই বাড়িটি তাঁর স্মৃতিচিহ্ন। এটা একটা হেরিটেজ। এই বাড়ি ভেঙে ফেলা আমরা কোনোভাবেই মানতে পারি না।’

রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ আনিসুর রহমান দাবি করেন, ৬ আগস্ট কিছু ছাত্র এসে প্রথমে বাড়িটি ভাঙতে শুরু করে। যারা ভাঙছিলেন তিনি তাদের পরিচয় জানতে চেয়েছিলেন। তখন তারা জানান, তারা শ্রমিক এবং কিছু ছেলে তাদের টাকা দিয়েছেন এটা ভেঙে ফেলার জন্য। জায়গাটি নিয়ে কলেজের পরিকল্পনা থাকলেও বাড়িটি নিজেরাই ভাঙার অভিযোগ অস্বীকার করেন অধ্যক্ষ।

এ বিষয়ে রাজশাহী প্রশাসক শামিম আহমেদ বলেন, ‘ঋত্বিক ঘটকের পৈতৃক বাড়িটি ভেঙে ফেলার কথা শুনলাম। সাংস্কৃতিককর্মীরা আমার কাছে এসেছিলেন। আমি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (সার্বিক) তদন্ত করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছি। যারাই এই বাড়ি ভাঙুক, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাড়িটির যা অবশিষ্ট আছে তা সংরক্ষণ করা হবে।’