৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
১৭ মে, ২০২৬

বিভাগের সভাপতি নিয়োগ নিয়ে রাবিতে শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা ধ্বস্তাধস্তি

Admin Published: March 6, 2025, 5:40 pm
বিভাগের সভাপতি নিয়োগ নিয়ে রাবিতে শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা ধ্বস্তাধস্তি

রাবি সংবাদদাতা : অন্য বিভাগ থেকে সভাপতি নিয়োগের আদেশ প্রত্যাহার করে নিজ বিভাগ থেকে সভাপতি নিয়োগের দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রশাসন ভবন অবরোধ এবং বিক্ষোভ কর্মসূচি করেছে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থীরা।


আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করেন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের  আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন তারা ।


এসময় শিক্ষার্থীরা 'ভাড়া করা চেয়ারম্যান মানি না, মানবো না', 'বহিরাগত চেয়ারম্যান মানি না, মানবো না', 'নিজের ঘরে পরের শাসন মানিনা মানবো না'সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।


কর্মসূচিতে বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, অন্য বিভাগের শিক্ষককে আমরা সভাপতি হিসেবে চাই না। যারা আমাদের বিভাগকে ধারণ করে তাদের একজনকেই জেষ্ঠ্যতার ভিত্তিতে সভাপতি হিসেবে নিয়োগ চাই।


সাইফ রহমান নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের বিভাগে যোগ্য শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন রাতের আধারে ফাইন্যান্স বিভাগের একজন শিক্ষককে বদলি করে সভাপতি নিয়োগ দিয়েছে। এতে রীতিমত আমাদের বিভাগের শিক্ষদের যোগ্যতার দিকে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। আমাদের নিজের বিভাগে যখন যোগ্য শিক্ষক রয়েছেন তাহলে কেন আমরা বাইরের বিভাগ থেকে সভাপতি নিব। আমাদের বিভাগের আগের সভাপতি, সেও অন্য বিভাগের ছিলেন। আমাদের কিছু না জানিয়ে তিনি চাকরি ছেড়ে বিদেশে চলে গিয়েছেন। আমরা আর অন্য বিভাগ থেকে সভাপতি চাই না।


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, উপাচার্য স্যার শিক্ষার্থীদের থেকে স্মারকলিপি নিয়েছে এবং আশ্বাস দিয়েছে এটা আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নিবেন। কিন্তু এখনই এটার সমাধান আসলে সম্ভব না। এভাবে জিম্মি করে এটা কোনো সভ্য সমাজের কার্যক্রম হতে পারে না।


এদিকে এদিন দুপুর পৌনে ১টার দিকে প্রশাসনিক ভবনে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জোহরের নামাজ আদায় করতে বের হতে চাইলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদের বাঁধা দেন। এসময় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে ট্যুরিজম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাজু সরদার অসুস্থ হয়ে পড়েন। এসময় তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।


কর্মকর্তা-শিক্ষার্থীদের এই হাতাহাতির প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তর অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোক্তার হোসেন। তিনি বলেন, ছাত্রদের বিভাগের বিষয়ে যে আন্দোলন, সেই আন্দোলনের সাথে আমরা কর্মকর্তা, কর্মচারীরা কোনোভাবেই সম্পৃক্ত না। এর সাথে যারা জড়িত, তাদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের সকল কাজ বন্ধ থাকবে। এছাড়া অন্যান্য সমিতি, ইউনিয়ন মিলে বৃহত্তর কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।


পরে এদিন বিকেল সাড়ে তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্‌ হাসান নকীব স্বাক্ষরিত এক প্রস্তাবনা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরেন প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সবার সাথে আলোচনা করে বিষয়টির সুরাহা করা হবে। বিষয়টি সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত নব নিযুক্ত অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন সভাপতির পদে যোগদান করবেন না। পরে উপাচার্যের প্রস্তাবনা মেনে নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের কর্মসূচি শেষ করেন।


উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহিদ হোসেনকে স্বপদে-স্ববেতনে ও প্রেষণে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে বদলি করা হয়। যোগদানের তারিখ থেকে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী আগামী তিন বছরের জন্য তাকে ওই বিভাগের সভাপতি নিয়োগ করা হয়। এ ছাড়া ওই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাজু সরদার-কে বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহিত দেয়া হয়।