৯ ভাদ্র, ১৪৩৩
২৪ আগস্ট, ২০২৬

হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত না করেই ইরান যুদ্ধ শেষ করতে চান ট্রাম্প

Admin Published: March 31, 2026, 1:07 pm
হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত না করেই ইরান যুদ্ধ শেষ করতে চান ট্রাম্প

ডিএনএন ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সহযোগীদের জানিয়েছেন যে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুরোপুরি উন্মুক্ত না করেই তিনি ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে শেষ করতে ইচ্ছুক। সোমবার (৩০ মার্চ) প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। খবর দ্য হিন্দুর। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে ইরানের নৌবাহিনী এবং ক্ষেপণাস্ত্র মজুতকে ‘পঙ্গু’ করে দেওয়াকেই মূল সাফল্য হিসেবে দেখছে। হোয়াইট হাউজের মতে, এই প্রধান লক্ষ্যগুলো অর্জিত হলে বর্তমান সংঘাত কমিয়ে আনা সম্ভব। প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার অভিযানটি আপাতত স্থগিত রেখে, পরবর্তী কোনো সময়ে কূটনৈতিক চাপের মাধ্যমে তেহরানকে মুক্ত বাণিজ্যে বাধ্য করার পরিকল্পনা করছেন ট্রাম্প। 

সোমবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, প্রেসিডেন্ট এবং পেন্টাগন শুরু থেকেই এই অভিযানের জন্য ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘আজ (৩০ মার্চ) অভিযানের ৩০তম দিন চলছে।’


ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যমতে, ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টারা মূল্যায়ন করেছেন যে, জোরপূর্বক হরমুজ প্রণালি এখনই উন্মুক্ত করতে গেলে যুদ্ধ তাদের নির্ধারিত সময়সীমার বাইরে চলে যাবে ও দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেবে। যা এড়াতেই এই কৌশলী পিছুটান।

যদি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়, তাহলে ওয়াশিংটন ইউরোপীয় ও পারস্য উপসাগরীয় মিত্রদের (যেমন: সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত) ওপর চাপ সৃষ্টি করবে যেন তারা হরমুজ প্রণালি সচল করার মূল দায়িত্ব গ্রহণ করে। এমনকি ইরান যুদ্ধের বিশাল ব্যয়ভার এই ধনী আরব দেশগুলো যেন বহন করে, সে ব্যাপারেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বেশ আগ্রহী বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন লেভিট।


গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর যৌথ হামলা শুরু করলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে। বর্তমানে প্রতিদিন শত শত কন্টেইনার, ড্রাই বাল্ক এবং তেলবাহী জাহাজের চলাচল স্থবির হয়ে আছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত মূলত যুদ্ধ দীর্ঘায়িত না করে একটি নির্দিষ্ট সামরিক বিজয় নিয়ে দ্রুত প্রস্থান করার কৌশল।