ডিএনএন ডেস্ক: মঞ্চটা প্রস্তুত ছিল আগেই, কিন্তু সেখানে মূল চরিত্রের উপস্থিতি নিয়ে ছিল এক বুক সংশয়। চোটের অতল অন্ধকারে কেটেছে লম্বা সময়। যখন বাকিরা মাঠ মাতাচ্ছিল, তখন মাঠের বাইরে এক নিঃসঙ্গ লড়াই লড়ে যাচ্ছিলেন তিনি নেইমার জুনিয়র।
৩৪ বছর বয়সে এসে বিশ্বকাপের প্রথম দুটো ম্যাচ গ্যালারিতে বসে দেখা যে কতটা যন্ত্রণার, তা কেবল তিনিই জানেন। অবশেষে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ ভাগে যখন তিনি বদলি হিসেবে মাঠে নামলেন, গ্যালারিতে তখন সাম্বার চেনা উন্মাদনা। ৩–০ গোলের জয় ছাপিয়ে সবার চোখ ছিল ওই একটা মানুষের ওপর। তিনি ফিরছেন, নিজের চেনা সাম্রাজ্যে।
নকআউটের আগে সংবাদ সম্মেলন। চারদিকে ক্যামেরার ফ্ল্যাশ আর সাংবাদিকদের হাজারো প্রশ্ন। মাইক্রোফোনের সামনে এসে ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি যখন কথা বলতে শুরু করলেন, তার কণ্ঠে ছিল এক অদ্ভুত আত্মবিশ্বাস। আনচেলত্তি বলেন, গত এক সপ্তাহে নেইমারের চোট কাটিয়ে ওঠার অগ্রগতি সত্যিই দুর্দান্ত। দুর্ভাগ্যবশত আগে যাকে ১৫ মিনিটের বেশি খেলানো সম্ভব ছিল না, সে এখন অনেক বেশি সময় মাঠ কাঁপানোর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। কোচের এই এক ঘোষণাতেই যেন পুরো ব্রাজিল শিবিরে স্বস্তির সুবাতাস বয়ে গেল। চোটের কালো মেঘ কেটে গিয়ে এখন কেবলই সামনে তাকানোর পালা। অবশ্য জাপানের বিপক্ষে শুরুর একাদশে নেইমার খেলবেন কি না, সেটা নিয়ে স্পষ্ট কোনো বার্তা দেননি আনচেলত্তি। তবে, তার বক্তব্যে এতটুকু নিশ্চিয়তা পাওয়া গেছে নকআউট মাঠে দেখা যাবে নেইমারাকে।
সামনে যখন সামুরাই প্রাচীর
নকআউট পর্বের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ, প্রতিপক্ষ জাপান। রাউন্ড অব ৩২-এর এই লড়াইকে আনচেলত্তি কোনো সাধারণ ম্যাচ হিসেবে দেখছেন না। তার চোখে এটা একটা ফাইনাল। জাপানকে বিশ্বের অন্যতম সেরা দল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে কোচ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, প্রতিপক্ষকে তারা সর্বোচ্চ সম্মান দিচ্ছেন। নকআউট পর্ব মানেই স্নায়ুর চরম পরীক্ষা। সেখানে কেবল পায়ের জাদু নয়, মনের জোরও সমান জরুরি। অতিরিক্ত সময় কিংবা পেনাল্টি টাইব্রেকার, যেকোনো পরিস্থিতির জন্য দলকে মানসিকভাবে ইস্পাতকঠিন থাকার তাগিদ দিয়েছেন আনচেলত্তি। দল এখন অনুপ্রাণিত, আত্মবিশ্বাসী এবং যেকোনো চ্যালেঞ্জ নিতে মুখিয়ে আছে।
৪৪ বছরের গৌরবগাথা
ব্রাজিল কেবল একটি দল নয়, তারা ফুটবলের এক অবিসংবাদিত ঐতিহ্য। গ্রুপ ‘সি’-এর শীর্ষস্থান দখল করে তারা আরও একবার মনে করিয়ে দিল কেন তারা অনন্য। ১৯৮২ সালের পর থেকে আজ পর্যন্ত, টানা ১২টি বিশ্বকাপে নিজেদের গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে ওঠার এই অবিশ্বাস্য কীর্তি সেলেসাওদের ৪৪ বছরের একাধিপত্যের গল্প বলে। এই গৌরবময় ইতিহাসকে সঙ্গী করে, নেইমারের ফেরার উদ্দীপনা বুকে নিয়ে ব্রাজিল এখন প্রস্তুত জাপানের মুখোমুখি হতে। নকআউটের এই অগ্নিপরীক্ষায় সাম্বার ছন্দ নাকি সামুরাইদের শৃঙ্খলা শেষ হাসি হাসবে, তা দেখার অপেক্ষায় পুরো ফুটবল বিশ্ব।