ডিএনএন ডেস্ক: রাজশাহীর পবা উপজেলার পদ্মা নদীর দুর্গম চর খানপুর ও চর মাঝারদিয়ার বাসিন্দারা খেয়াঘাটের ইজারা বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন।আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় নগরীর টি-বাঁধ এলাকায় এই কর্মসূচি আয়োজন করেন চরাঞ্চলবাসী।
চরাঞ্চলবাসীর অভিযোগ, চর খানপুর ও চর মাঝারদিয়া থেকে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম নৌকা। বর্তমানে এই নৌ-ঘাটে ইজারা দেওয়ার ফলে সাধারণ লোকজন ও কৃষিপণ্য আনা-নেওয়ায় অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে। নৌকা ভাড়া ছাড়াও শ্রীরামপুর ঘাট (টি-বাঁধ) এলাকায় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ইজারার নামে জোরপূর্বক অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চরে বসবাসকারী প্রায় ৩০ হাজার নারী-পুরুষ।
চরাঞ্চলের কৃষক জসিম অভিযোগ করে বলেন, “আমরা শহরে হাটবাজার করতে রাজশাহী শহরে আসি। এছাড়াও সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে যেতে হলে আমাদের অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়। সরকারের নাম করে টাকা তোলে। টাকার কোনো রশিদ দেয় না। আর টাকা না দিলে জিনিসপত্র পানিতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেয়। আমরা কিছু বললে হুমকি দিয়ে বলে, সরকারের কাছ থেকে ইজারা নিয়েছি—তোদের মাথা কিনে নিয়েছি। নৌকায় চড়তে হলে আমাদের টাকা দিয়েই নৌকায় চড়তে হবে।”
আলামিন বলেন, “দুই দিন আগে আমার চাচি রাজশাহী মেডিকেলে মারা যান। ওই লাশ ঘাট দিয়ে বাড়ি নেওয়ার সময়ও তারা টাকা দাবি করে। তারা জিম্মি করে টাকা আদায় করেছে। এসব বিষয় আমরা আর মেনে নিতে পারছি না। এখন আমাদের দাবি, ঘাটকে চাঁদাবাজিমুক্ত করা হোক।”
তিনি আরও জানান, “আমরা কৃষিকাজ করে খাই। ঘাটে এভাবে টাকা দিতে গেলে আমাদের হাতে আর কিছু থাকে না। এই ইজারা আমাদের বেঁচে থাকার ওপর আঘাত। তাই আমরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছি।”
তাদের দাবি, চরাঞ্চলবাসীর যাতায়াতের কথা বিবেচনা করে অবিলম্বে এই ইজারা প্রথা বাতিল করতে হবে এবং নদীপথে চলাচলের পথ উন্মুক্ত রাখতে হবে।
মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা।
এসব কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, চর মাজারদিয়াড় ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হুমায়ুন কবির, জেলা জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট সেলিম রেজাসহ শতাধিক চরাঞ্চলবাসী।