ডিএনএন ডেস্ক: ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের নৌ ও বিমান বাহিনী যৌথভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে ‘গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনার’ ৮৫টি স্থানে হামলা চালিয়েছে। খবর আল-জাজিরার।
বুধবার (৮ জুলাই) আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, এই হামলাগুলো বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি ও কুয়েতের আলী আল-সালেম বিমান ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে।
হামলার পর বাহরাইন জুড়ে বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বাজতে শোনা যায়। অন্যদিকে, কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বুধবার বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আকাশেই ধ্বংস বা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, এটি কোনো উসকানিমূলক হামলা নয়, বরং মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি ‘প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া।’
ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের তথ্যমতে, বুধবার ভোরের দিকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমুজগান ও মাহশাহরের উপকূলীয় সামরিক ঘাঁটি এবং বেশ কিছু অসামরিক স্টেশনে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
আইআরজিসি যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলাকে যুদ্ধবিরতি ও ‘ইসলামাবাদ চুক্তি’র ১৪টি ধারার চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, “অপরাধী আমেরিকা যদি এভাবে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করতে থাকে, তবে এই অঞ্চলের প্রতিটি মার্কিন ঘাঁটি আমাদের ড্রোনের বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।”
একই সঙ্গে ইরান অভিযোগ করেছে, তাদের প্রয়াত নেতার জানাজার ঐতিহাসিক মিছিল থেকে বিশ্ববাসীর মনোযোগ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতেই মূলত ওয়াশিংটন এই হামলা চালিয়েছিল।
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর ইরান যে হামলা চালিয়েছিল, তার পাল্টা জবাব দিতেই মার্কিন বাহিনী বুধবার ভোরে ইরানের ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করিডোরে নির্বিঘ্নে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে এবং ইরানের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতেই এই অভিযান।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে দুই পক্ষ যেভাবে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে, তাতে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনা গেলে তা পুরো অঞ্চলের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।