রাবি প্রতিনিধি: জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখার উদ্যোগে পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষ্যে কোরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ই মার্চ) বিকাল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ প্রতিযোগিতা শুরু হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: আমানউল্লাহ আমান।
আমানউল্লাহ আমান বলেন, মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মদিনার প্রেসিডেন্ট। উনি যেরকম মেস চরিয়েছেন, কাজ করেছেন, কর্মঠ ছিলেন তেমন রাষ্ট্রপতিও ছিলেন। কুরআনকে আমরা অনেক সময় দেখি রোগবালাই হলে ফু দেয়ার জন্য ব্যবহার করি। কিন্তু কুরআন যে সংবিধান, কুরআন যে আইনের বিধান, কুরআন যে সব জায়গায় প্রযোজ্য সেটা আমরা ভুলে যায়। যার কারণে আমাদেরকে বিপদগ্রস্ত হতে হয়। পাশাপাশি আমরা দেখেছি যে অসংখ্য ইসলামিক দল যারা নিজেদের মতো করে ফতোয়াবাজি করে, কুরআনকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে।
তিনি আরো বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে বাংলাদেশের ইসলামের খেদমতে কত কাজ করেছেন। আমরা দেখি অনেক ইসলামী সংগঠন শুধু লেবাসধারী যারা মুসলমানের কথা বলে ইসলামের কথা বলে মানুষের ধর্মানুভূতিতে আঘাত আনে কিন্তু তাদের ইসলামের প্রতি কোন প্রকার অবদান বাংলাদেশে নেই। যখন আওয়ামী লীগ ইসলাম ও কোরআনের উপর আস্থা ও বিশ্বাস সংবিধান থেকে উঠিয়ে নিয়েছিল তখন এই ইসলামী সংগঠন কি কর্মসূচি দিয়েছিল? ইসলামকে নিয়ে যখন এক-এক জন ফতোয়াবাজ এক এক রকম কথা বলে তখন আমরা দেখেছি বিভিন্ন দরবার খুলে ইসলামের অপব্যাখ্যা দেওয়া হয়। এইখানে শুধু ভোটের রাজনীতির কারণে তারা কোরআনের সাথে সংঘর্ষিক কোন বিষয়ে কথা বলে না। এগুলো আমরা জাতির সামনে প্রশ্ন করতে চাই। ইসলাম সেই পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা ৬৬৬৬ আয়াতের একটি আয়াতেরও সাথে যদি আপনি আপোষ করেন তাহলে আপনি পূর্ণাঙ্গ কোরআন এর সাথে বিরোধিতা করছেন ইসলাম বলে।
তিনি বলেন, আমরা দেখেছি মেয়ের মুগ্ধকে কথা বলতে বলতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন। আমাদের ভুলে গেলে হবে না আমাদের ভাইয়েরা কিসের জন্য রক্ত দিয়েছিল। সেই সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচারের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের ভাইয়েরা রক্ত দিয়েছে। কিন্তু পাঁচই আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেখেছি সেই শহিদদের রক্তের সাথে বেইমানি করে শুধুমাত্র ক্ষমতার যেও ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য সেই ফ্যাসিবাদীদের পুনর্বাসনের জন্য আরেকটা অপচেষ্টা চলছে।
প্রতিযোগিতায় তৃতীয় হয়েছেন আরবি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান, দ্বিতীয় হয়েছেন আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রেজওয়ান হোসেন, প্রথমস্থান অধিকার করেছেন সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী হালিমাতুস সাদিয়া।
অনুষ্ঠানে বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক নেছার উদ্দিন আহমেদ, হাফেজ মোহাম্মদ শাহাজল ইসলাম, সহকারী পেশ ইমাম, কেন্দ্রীয় মসজিদ, রাবি; ক্বারী মাওলানা মোহাম্মদ ইসরাফিল, পেশ ইমাম, শাহ মখদুম হল মসজিদ, রাবি; হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল ফাত্তাহ, পেশ ইমাম, শহীদ হবিবুর রহমান হল মসজিদ, রাবি।
ছাত্রদলের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলামসহ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিবির শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।