স্টাফ রিপোর্টার : আলোচনাসভা, র্যালী ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রাজশাহীতে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রবিবার রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজশাহী জেলা প্রশাসন, মহিলা বিষয়ক অধিদফতর ও জাতীয় মহিলা সংস্থার উদ্যোগে সারাবিশ্বের মতো রাজশাহীতেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি উদযাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার বলেন, যার সম্মান বেশি তাকেই আমরা অসম্মানিত করতে চাই। নারীদের সম্মান সৃষ্টিকর্তা দিয়েছে, সমাজ দিয়েছে এবং প্রতিটি ধর্মও দিয়েছে। কিন্তু সকল ক্ষেত্রেই নারীদের অসম্মানিত করার চেষ্টা করা হয়। আমাদের সম্মান আছে, কারও কাছে আমরা সম্মান ভিক্ষা চাইবো না। আমরা আমাদের কর্তব্য পালন করব। আমাদের আচরণ দিয়ে সম্মান প্রতিষ্ঠা করব।
জেলা প্রশাসক বলেন, নারীদের সবাই লেবার হিসেবে পছন্দ করে, মানুষ হিসেবে ভালোবাসতে কম চায়। বাইরের কাজ, ঘরের কাজ এবং শ্রমিক হিসেবে আপনি খুবই পছন্দের কিন্তু সঙ্গী হিসেবে পছন্দের হওয়াটা খুবই কঠিন। পছন্দের কি হতে হবে? আমি মনে করি তার প্রয়োজন নেই। কেউ কারো পছন্দের হতে পারে না, কখনোই পারেনা। আপনি ভালো আছেন কিনা; আপনার সন্তানকে নৈতিকভাবে সঠিক এমনিই আসবে।
তিনি বলেন, নারী-পুরুষ কেউ কারও প্রতিদ্বন্দ্বী না, সকলেই সহযোগী। নারী-পুরুষ দুই অংশ যদি সহযোগী না হয় তাহলে সমাজের উন্নয়ন কখনোই সম্ভব হবে না। সমাজ, দেশ এবং নিজের উন্নয়নের জন্য আমরা একে অপরের সহযোগী হবো। তিনি আরও বলেন, আমরা চাই কেউ যেন নির্যাতন করে পার পেয়ে না যেতে পারে। প্রথম প্রতিরোধ হতে হবে তার পরিবার থেকে, পরে সমাজ এবং রাষ্ট্র থেকে।
রাজশাহী মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের উপপরিচালক শারমিন শাপলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সবুর আলী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হেলেনা আক্তার এবং সিভিল সার্জন দপ্তরের মেডিকেল অফিসার ডা. তামান্না কবীর বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি, প্রশিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে জেলা প্রশাসক চত্বর হতে একটি র্যালি বের করা। র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। অনুষ্ঠান শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়।
এদিকে সকালে নগরীর আলুপট্টি মোড় থেকে একটি র্যালি শুরু হয়ে সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) রাজশাহী, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি), বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ রাজশাহী জেলা শাখা, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি রাজশাহী, পরিবর্তন রাজশাহী, দিনের আলো হিজড়া সংঘ রাজশাহী মহানগরসহ বিভিন্ন সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাজনীতি ও নির্বাচনে নারীর সমান প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। তারা বলেন, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন গণআন্দোলনে এ দেশের নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। কিন্তু অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক পরিসরে নারীরা ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়ছে বলে বক্তারা মন্তব্য করেন। রাজশাহীর উপজেলা পর্যায়েও দিবসটি পালন করা হয়েছে।