১৭ বৈশাখ, ১৪৩৩
৩০ এপ্রিল, ২০২৬

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পথে বিশ্ব?

Admin Published: March 2, 2026, 11:53 pm
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পথে বিশ্ব?

ডিএনএন ডেস্ক: ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে শনিবার আকস্মিক হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। দেশ দুটির যৌথ অভিযানে এরই মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির বিভিন্ন বাহিনীর প্রধান ও কমান্ডাররা নিহত হয়েছেন। এই হামলার প্রতিশোধ নিতে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে।


টানা তিন দিনের এই সংঘাত ক্রমেই আরও উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে কিছু দেশ সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে, আবার কয়েকটি দেশ বিপরীতমুখী অবস্থান নিয়েছে।


যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানিসহ কয়েকটি বড় রাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন জানিয়েছে। অন্যদিকে চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া সরাসরি যুদ্ধে না জড়ালেও আড়ালে ইরানকে সমর্থন দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


ইরানকে সমর্থন করে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ফোনালাপে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে বলেন, বেইজিং চীন-ইরানের ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। তিনি ইরানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় মর্যাদা রক্ষায় চীনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং ইরানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষার কথাও উল্লেখ করেন।


রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। কঠিন এই সময়ে রাশিয়া ইরানের জনগণের পাশে রয়েছে বলেও জানান তিনি।


ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। রোববার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ‘প্রত্যাশিত’ ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ‘আধিপত্যবাদী ও গ্যাংস্টার-সদৃশ’ নীতির কারণেই পরিস্থিতি আরও বৈরী হয়েছে বলে দাবি করা হয়।


বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘আগ্রাসী যুদ্ধ’ কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আঞ্চলিক দেশগুলোর পাশাপাশি অভিন্ন স্বার্থসম্পন্ন অন্যান্য দেশগুলোকেও দায়িত্ব নিতে হবে।


অন্যদিকে, ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দিয়ে ফ্রান্স জানিয়েছে, খামেনিকে হত্যা করা হয়েছে- এ ঘটনায় তারা সন্তুষ্ট। প্রয়োজনে ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে প্যারিস। নিজেদের এবং উপসাগরীয় মিত্রদের স্বার্থ রক্ষায় তারা প্রস্তুত বলে জানানো হয়। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ সক্ষমতা ধ্বংসে প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।


ইসরায়েলকে সমর্থন জানিয়ে জার্মান রাজনৈতিক ও সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরান যদি উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর হামলা অব্যাহত রাখে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে যোগ দেওয়ার বিষয়টি ‘গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা’ করছে বার্লিন। এতে সরাসরি বোমা হামলায় অংশগ্রহণ থেকে শুরু করে সামরিক ও আকাশি সহায়তা দেওয়ার বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।


ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পরোক্ষভাবে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থায় হামলা চালাতে তাদের ঘাঁটি ব্যবহার করার অনুমতি যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া হয়েছে।