২৩ বৈশাখ, ১৪৩৩
০৬ মে, ২০২৬

‘ভালো খেললে প্রশংসা, খারাপ খেললেই সমালোচনা’, এই সংস্কৃতি বদলাতে চান আফিদা

Admin Published: May 6, 2026, 6:27 pm
‘ভালো খেললে প্রশংসা, খারাপ খেললেই সমালোচনা’, এই সংস্কৃতি বদলাতে চান আফিদা

ডিএনএন ডেস্ক: আসন্ন নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে আজ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে বাংলাদেশের চূড়ান্ত স্কোয়াড। টানা তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জয়ের মিশনে এবার দলকে নেতৃত্ব দেবেন আফিদা খন্দকার।


দল ঘোষণার পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রস্তুতি, প্রত্যাশা এবং সমালোচনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন নতুন এই অধিনায়ক।

নিজের পারফরম্যান্স ও ফর্ম নিয়ে কথা বলতে গিয়ে দেশের ফুটবল সংস্কৃতির বাস্তবতাও তুলে ধরেন আফিদা।



সিনিয়র পর্যায়ে পারফরম্যান্সের ওঠানামা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আসলে একজন খেলোয়াড়ের সব সময় ভালো সময় যায় না। আমাদের দেশে কেউ ভালো খেললে তাকে অনেক প্রশংসা করা হয়, আবার একটু খারাপ করলে অনেক বেশি সমালোচনা করা হয়।

আমি মানুষের এই চিন্তাভাবনা পরিবর্তন করতে চাই, যাতে খেলোয়াড়দের সবসময় উৎসাহিত করা হয়।’

এবারের সাফ দলে বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকে উঠে আসা বেশ কয়েকজন নতুন মুখ রয়েছে।


বড় মঞ্চে এই তরুণদের ওপর প্রত্যাশার চাপ কতটা? এমন প্রশ্নের জবাবে আফিদা আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠেই বলেন, দলে নতুন বলে কিছু নেই। খেলোয়াড়রা দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে অনুশীলন করছে এবং তাদের বোঝাপড়াও বেশ ভালো। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভালো কিছু করার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি।

টানা দুইবারের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ এবার ভারতের গোয়ায় মাঠে নামবে শিরোপা ধরে রাখার কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে। স্বাগতিক ভারত নিজেদের মাটিতে বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক শিরোপা ঠেকাতে মরিয়া থাকবে বলেই মনে করেন আফিদা। তিনি বলেন, ‘সাফে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপাল— এই তিনটি দলই অনেক শক্তিশালী। ভারত চাইবে না বাংলাদেশ হ্যাটট্রিক করুক। তবে তাদের হারানোর প্রস্তুতি নিয়েই আমরা যাচ্ছি। যেকোনো দেশের মাটিতেই হোক না কেন, নিজেদের সেরাটা দিয়ে জেতার চেষ্টা থাকবে আমাদের।’


শিরোপা ধরে রাখার বাড়তি মানসিক চাপ নেই বলেও জানিয়েছেন এই মিডফিল্ডার। তার ভাষায়, ‘প্রত্যাশার চাপ ওরকম কিছু না। আমরা যখন মাঠে নামি, তখন মাথায় থাকে না যে হ্যাটট্রিক করতে হবে। আমরা জেতার জন্যই মাঠে নামি। বাকিটা উপরওয়ালার হাতে।’


সম্প্রতি এএফসি কাপে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের দুর্বলতা নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। বিশেষ করে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ২ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ ১৫ মিনিটে ৩ গোল হজম করার তিক্ত অভিজ্ঞতা এখনো পোড়াচ্ছে দলকে। সেই ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা জানিয়ে আফিদা বলেন, ‘হার-জিত খেলার অংশ। এএফসিতে খেলার অভিজ্ঞতা থেকে আমরা শিখেছি, এই পর্যায়ের ফুটবলে পুরো ম্যাচজুড়ে একাগ্রতা ধরে রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। একাগ্রতা হারানোর কারণেই থাইল্যান্ডের বিপক্ষে গোলগুলো হজম করতে হয়েছিল।’


এই ছোট ছোট ভুল শুধরে নিয়ে সাফের মঞ্চে নতুন করে নিজেদের প্রমাণ করতে মুখিয়ে আছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল।