৯ ভাদ্র, ১৪৩৩
২৪ আগস্ট, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে চাপে নেতানিয়াহু

Admin Published: June 26, 2026, 12:04 pm
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে চাপে নেতানিয়াহু

ডিএনএন ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ধাক্কা লেগেছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অবস্থানে।দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে মোকাবিলার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন নেতানিয়াহু। তার বিশ্বাস ছিল, ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারণে প্রভাব খাটিয়ে তিনি ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষা করতে পারবেন।



বিশেষ করে রিপাবলিকান পার্টির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যমে তিনি বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, তেহরানকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সামরিক চাপের বিকল্প নেই।

মার্কিন কূটনৈতিক মহলে নেতানিয়াহুকে একসময় এমন একজন নেতা হিসেবে দেখা হতো, যিনি সরাসরি ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রভাব ফেলতে সক্ষম।


অন্য কোনো ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী তার মতো এতবার মার্কিন কংগ্রেসে ভাষণ দেননি বা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এত দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবও গড়ে তুলতে পারেননি।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক উত্তেজনার পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের সাম্প্রতিক সমঝোতা সেই পুরোনো ধারণাকে বদলে দিয়েছে।


এখন আর যুক্তরাষ্ট্রের ইরাননীতি নির্ধারণে নেতানিয়াহুর প্রভাব আগের মতো নেই। বরং তাকে ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্ত মেনে চলতে হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন একটি সমঝোতার পথে এগোচ্ছেন, যেখানে ইসরায়েলের আপত্তিগুলোকে ক্রমেই বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।


সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা ডেনিস রসের মতে, দেশের ভেতরেও কঠিন রাজনৈতিক চাপে রয়েছেন নেতানিয়াহু। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধের অবসান চায়, অন্যদিকে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক সমর্থকেরা, বিশেষ করে লেবানন ইস্যুতে, কোনো ধরনের ছাড় দিতে রাজি নন।


সব মিলিয়ে নেতানিয়াহু এখন এমন এক জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি, যেখানে সেনা প্রত্যাহার করলে রাজনৈতিক ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে, আবার সামরিক অভিযান জোরদার করলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মতবিরোধ আরও বাড়তে পারে।


সূত্র: রয়টার্স