১০ বৈশাখ, ১৪৩৩
২৪ এপ্রিল, ২০২৬

আ.লীগ নেতার নির্দেশে জমি ও পুকুর দখল, প্রতিবাদ করায় হামলা-মামলা

Admin Published: November 24, 2024, 11:29 pm
আ.লীগ নেতার নির্দেশে জমি ও পুকুর দখল, প্রতিবাদ করায় হামলা-মামলা

স্টাফ রিপোর্টার :স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার নির্দেশে অবৈধ ভাবে জমি ও পুকুর দখল এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রতিবাদ করায় হামলা-মামলায় জর্জরিত হয়ে এলাকাছাড়া হয়ে আছেন গ্রামবাসী। এ ঘটনায় থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে স্থানীয় পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার দুলালীপাড়া এলাকায়।


সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে জানা গেছে, বিবাদমান জমি ও পুকুরের মুল মালিক এনায়েতুল হক ওরফে বিন্দু দিং। তার কাছ থেকে লীজ নেন মনসুর রহমান নামের এক ব্যাক্তি। ২০ বছর ধরে মনসুর রহমান ওই জমি ও পুকুর ভোগ দখল করছিলেন। ২০১৩ সালের শেষ দিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আক্কাস আলী মাস্টারের নেতৃত্বে বিবাদমান জমি ও পুকুর দখল নেয়া হয়। তারপর থেকে আর মনসুর রহমানকে ওই জমি ও পুকুরে যেতে দেয়া হয়নি।


মনসুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা আক্কাস মাস্টার অবৈধ ভাবে প্রায় ৩৬ বিঘা জমি দখল করেছেন। জমিতে আম বাগান ছিলো। ক্যাডার বাহিনী ভাড়া করে রাতের আঁধারে ৫০ লাখ টাকার বিনিময়ে আমগাছ গুলো বিক্রি করে দিয়েছে। মনসুর রহমান আরও বলেন, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুণরায় জমি দখলে নিয়ে চাষাবাদ শুরু করি এবং পুকুরে মাছ চাষের জন্য পোনামাছ অবমুক্ত করি। এরপর আক্কাস বাহিনী পুণরায় জমি দখলে নিতে আমাদের উপরে হামলা চালায় ও পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন করে।


জালাল উদ্দীন অভিযোগ করে বলেন, গত ৪ সেপ্টেম্বর লিজ নেওয়া ওই পুকুরে মাছ দেখতে গেলে আক্কাস বাহিনীর লোকজন আমাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং আমাদের উপর চড়াও হয়। তারা একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র হাসুয়া, লোহার রড, হাতুড়ি, চাপাতি নিয়ে আমাদের উপর হামলা করে। এতে আমার মাথা সহ শরীরের বেশ কিছু অংশ জখম হয়। এছাড়াও আমার সাথে থাকা আমার ভাতিজা সবুজ আলীকেও তারা এলোপাতাড়ি মারপিট করে শরীর জখম করে দেয়। এ সময় আমাদের ডাক চিৎকারে  কয়েকজন এগিয়ে এলে তাদেরকেও মারধর করে। ঘটনার পর প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়।


ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মাহাবুর আলী বলেন, ঘটনার দিন আমি উপস্থিত ছিলাম। আক্কাস বাহিনীর লোকজন জালাল চাচাকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে মাথা ফেটে রক্ত ঝরছিল। এ সময় কয়েকজন আগাইতে গেলে তাদেরকেও তারা এলোপাথাড়ি মারপিট করে।


পাভেল ইসলাম নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা থানায় মামলা করলেও তা আমলে না নিয়ে অপর পক্ষের মিথ্যা মামলায় ভুক্তভোগীপক্ষের একজনকে আটক করে জেল হাজতে পাঠায় পুলিশ। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন তাহেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সোহাইল রানা আক্কাস বাহিনীর সাথে আঁতাত করে চলতেন। তিনি এখনো আক্কাস বাহিনীর পক্ষে কাজ করছেন।


অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা আক্কাস আলীর সাথে কথা বলতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কল ধরেননি। তাহেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির অভিযুক্ত ইনচার্জ (আইসি) এসআই সোহাইল রানাকেও মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি। বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তৌহিদুল ইসলামকেও মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।


জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল আলম বলেন, পুলিশের পক্ষপাতিত্বের কোনো সুযোগ নাই। তারপরও এমন অভিযোগ পেলে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হবে।