স্টাফ রিপোর্টার : পৌরকর পরিশোধ করলেই মিলছে ডাস্টবিন উপহার। শুধু উপহারই নয়, বর্জ্য অপসারণেরও নিশ্চয়তা পাচ্ছেন তাঁরা। এভাবে কর আদায় বাড়ার সঙ্গে পরিচ্ছন্ন শহরে পরিণত হচ্ছে। এই ব্যতিক্রম আয়োজন করেছে রাজশাহীর বাগমারার ভবানীগঞ্জ পৌরসভা। কর্তৃপক্ষের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন পৌরবাসী।
গত ৫ আগস্টের পর মেয়রকে অপসারণ করে সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) প্রশাসকের দায়িত্ব দেয় স্থানীয় সরকার বিভাগ। এর আগে দলীয় মেয়র দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য এনামুল হকের ফুফাতো ভাই। তবে প্রশাসকের দায়িত্ব নেওয়ার পরেই চিত্র পাল্টে যায়।
বিশেষ করে কর আদায়ে তৎপর হয় প্রশাসকের নেতৃত্বে থাকা পর্ষদ। তাঁরা ২৭ লাখ টাকা কর আদায়ে মাঠে নামেন। সঙ্গে সঙ্গে পৌরসভার রাস্তাঘাট ঝকঝকে রাখারও পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সে মোতাবেক পৌরসভার উন্নয়নের চলমান স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের আই ইউ জি আই পি প্রকল্প থেকে পাওয়া ডাস্টবিন বিলি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় পৌরবাসীর মধ্যে। বকেয়া কর পরিশোধ করলেই ডাস্টবিন উপহারের ঘোষণা দেওয়া হয়। সে মোতাবেক চলতি মাস থেকে করদাতারা পৌরসভায় এসে পরিশোধ করছেন বকেয়া কর। এসময় তাদের উপহার দেওয়া হচ্ছে প্লাস্টিকের একটি করে ডাস্টবিন। কর পরিশোধ করা হোল্ডিং নম্বরধারীর বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে উপহারের ডাস্টবিন। এছাড়াও পৌরসভার বাজার, বিপনি, দপ্তর ও মোড়ে মোড়ে বসানো হয়েছে বড় আকারের উঁচু ডাস্টবিন। পৌর শহরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে।
ভবানীগঞ্জ পৌর সভার সহকারী প্রকৌশলী লিটন মিঞা বলেন, পৌরসভায় করের আওতায় রয়েছেন পাঁচ সহস্রাধিক পরিবার। দীর্ঘ দিন ধরে গৃহকর বকেয়া রেখেছেন তাঁরা। প্রকল্প থেকে চার হাজার ডাস্টবিন পাওয়া গেছে। সেগুলো উপহার দেওয়া হচ্ছে কর পরিশোধ করা লোকদের।
সরেজমিনে ভবানীগঞ্জ বাজারসহ পৌর শহরের প্রধান সড়কে আগের মতো আর ময়লা আর আর্বজনা চোখে পড়ে না। দোকানিরাও ময়লা, বর্জ্য পৌরসভার উপহার দেওয়া ডাস্টবিনে ফেলছেন। ভবানীগঞ্জ বাজারের ওষুধের দোকানী জালাল ফার্মেসির পরিচালক মাহফুজুল হক প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর দোকানের সামনে বড় ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছে। তিনিসহ পাশের দোকানিরা ময়লাসহ আর্বজনা সেখানে ফেলেন। পরে পরিচ্ছন্ন কর্মীরা নিয়ে যান। আগে নির্দিষ্ট কোনো জায়গা না থাকায় রাস্তায় ফেলে রাখতেন। এ রকম তথ্য দিয়েছেন ৩০-৪০ জন দোকানি।
ভবানীগঞ্জ মাস্টার পাড়ার বাসিন্দা সঞ্জয় কুণ্ডু জানান, তিনি বকেয়া পৌরকর শোধ করে প্লাস্টিকের একটি ডাস্টবিন উপহার পেয়েছেন। বাসার বর্জ্য সেখানেই ফেলছেন। তিনি জানান, পৌরসভা প্রতিষ্ঠার (২০০০ সাল) পর এটাই প্রথম উদ্যোগ। ময়লা আর্বজনা ফেলা ও অপসারণের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। ডাস্টবিন উপহারের ফলে শহর যেমন পরিষ্কার থাকছে, তেমনি নাগরিক সুবিধাও পাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন।
পৌরসভার সদস্য উপজেলা প্রকৌশলী খলিলুর রহমান বলেন, এই উদ্যোগের কারণে বকেয়া পৌর কর আদায় হচ্ছে। তাঁরা ২৭ লাখ টাকা আদায়ের লক্ষ্য মাত্রা নিয়ে মাঠে নামলেও আদায় হয়েছে ৩৬ লাখ টাকা। এই সফলতার অন্যতম কারণ ডাস্টবিন উপহার।
পৌরসভার প্রশাসক বাগমারা সহকারী কমিশনার ( ভূমি) নাহিদ হোসেন জানান, পৌরবাসীদের ডাস্টবিন উপহার এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে ডাস্টবিন স্থাপন করার কারণে ময়লা, আবর্জনা আর বর্জ্য রাস্তাঘাটে থাকছে না। শহর পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য এই উদ্যোগ।