স্টাফ রিপোর্টার : পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শনিবার সকাল থেকে রাজশাহীতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীরা। এ সময় বিভিন্ন এলাকার সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা যায় তাদের। এদিন ট্রাফিক পুলিশ বক্স ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের একটি কার্যালয় ভাঙচুর করাসহ সংবাদকর্মীকেও লাঞ্ছিত করা হয়।
সকাল ১০টার দিকে আন্দোলনকারীরা রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) সামনে জড়ো হয়। পরে তারা রুয়েটের সামনের সড়ক অবরোধ করে। একই সময়ে নগরীর নর্দান মোড় থেকে আন্দোলনকারীদের আরও একটি মিছিল এসে সড়ক অবরোধকারীদের সঙ্গে যোগ দেয়।
এ সময় বৃষ্টির কারণে তালাইমারী মোড়ে অবস্থান নেওয়া পুলিশ সদস্যরা সেখান থেকে সরে যায়। তবে বিক্ষুব্ধরা এই বৃষ্টির মধ্যেই তাদের আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যায়। পরে পুলিশ আবারও সেখানে সতর্ক অবস্থান নেয়। পরে আন্দোলনকারীরা রুয়েটের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তালাইমারি হয়ে নর্দান মোড়ে যান। সেখান থেকে ঘুরে একই স্থানে এসে আবারও বিক্ষোভে কর্মসূচিতে মিলিত হন।
পরে তারা তালাইমারি মোড়, ভদ্রা হয়ে রেলগেট পর্যন্ত যায়। এ সময় ভদ্রায় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের একটি কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়। এরপর শহরের রেলগেট এলাকায় পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ফেলা হয়। সেখানে একটি ট্রাফিক পুলিশ বক্সও ভাঙচুর করা হয়। পরে ভদ্রায় গিয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা যায় আন্দোলনকারীদের। এই কর্মসূচি ঘিরে সকাল থেকে শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এদিকে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে রাজশাহী মহানগর পুলিশের এক গোয়েন্দা সদস্যকে (সিটিএসবি) পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিনজন সংবাদকর্মীকেও লাঞ্ছিত করা হয়। আন্দোলনকারীদের অনেকে সকাল থেকেই কর্তব্যরত পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে অনেকটা মারমুখী আচরণ করেছে। তাদের অনেককে মুখে মাস্ক পরে থাকতেও দেখা যায়।
নগরীর মতিহার থানার ওসি শেখ মোবারক পারভেজ জানান, আন্দোলনকারীরা সকাল থেকে বিক্ষোভ করলেও পরিস্থিতি এখনো পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। তালাইমারীতে অবরোধ করলেও বিভিন্ন যানবাহন পাশের বিকল্প সড়ক ব্যবহার করছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রুয়েটসহ আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ঘিরে বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। এসব এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। কেউ জনগণের জানমালের ক্ষয়ক্ষতির চেষ্টা করলে পুলিশ তা প্রতিরোধ করবে।