৬ বৈশাখ, ১৪৩৩
২০ এপ্রিল, ২০২৬

রাজশাহীতে উর্ধমূখি চালের দাম

Admin Published: January 10, 2025, 10:17 pm
রাজশাহীতে উর্ধমূখি চালের দাম

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীতে গত ১০ দিনে পাইকারি বাজারে বস্তাপ্রতি চালের দাম বেড়েছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। এসব চালের মধ্যে কাটারি, জিরাশাইল, নাজিরশাইল ও মিনিকেটের দাম বেড়েছে কেজিতে ৬ থেকে ১০ টাকা। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ পড়েছেন চরম বেকায়দায়।

দাম বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে ব্যবসায়ী ও চালকলের মালিকরা বলছেন, অনেক ফড়িয়া ব্যবসায়ী ধান মজুত করেছেন। তাদের কাছ থেকে বেশি দামে ধান কিনতে হচ্ছে। এজন্য চালের বস্তায় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এটি বাজারে গিয়ে বাড়তি দর ৫০০ টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

তবে পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন, চালকলের মালিকরা দাম বাড়াচ্ছেন। আর খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, সব দোষ পাইকারি ব্যবসায়ীদের। কারণ চালকলের মালিকরা এক টাকা বাড়ালে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বাড়ায় দ্বিগুণ।

রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন বাজারে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে গত দুই সপ্তাহ ধরে চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী। শুক্রবার বাজারে বিআরআই-২৮ জাতের চাল কেজি বিক্রি হয়েছে ৬৫-৬৮, এটি  ১০ দিন আগে ছিল ৬০-৬৫ টাকা। মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৭৮-৮০ টাকা। এটি ছিল ৬৮-৭৫ টাকা। নাজিরশাইল বর্তমানে ৮০-৮৬ টাকা। আগে ছিল ৭০-৭৮ টাকা। গুটি স্বর্ণার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকা। কয়েক দিন আগে ছিল ৫০-৫৫ টাকা।

মহানগরীর লক্ষ্মীপুর বাজারে চাল কিনতে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা যারা নির্দিষ্ট আয় করি বা খেটে খাই তাদের কষ্ট তো সরকার বোঝে না, ব্যবসায়ীরাও বোঝে না। দাম বাড়ার কারণে আমি এখন চাল কম করে কিনছি।

সাহেববাজারের চাল ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, দাম বাড়ানোয় আমাদের কোনো হাত নেই। কারণ আমরা পাইকারি দরে কিনে সামান্য লাভে বিক্রি করি। দাম বাড়ার কারণ চালকল মালিকরাই ভালো বলতে পারবেন।

তবে চালকলের মালিকরা বলছেন, এখন মিলপর্যায়ে প্রতি বস্তা আটাশ চাল বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ২৫০ থেকে ৩ হাজার ৩৫০ টাকায়। মোটা চালের বস্তা ২ হাজার ৭৫০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা ও জিরাশাইল ৩ হাজার ৫০০ টাকায়। এই চাল আড়তদার ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে গেলে প্রতি বস্তায় বেড়ে আরও ২০০ থেকে ৩০০ টাকা যোগ হচ্ছে। খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে গিয়ে আরও এক দফা দাম বাড়ায় ক্রেতার কাছে যেতে প্রকারভেদে বস্তায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকাও বাড়ছে।

নগরীর হড়গ্রাম এলাকার আমেনা স্টোরের মালিক হাফিজুল ইসলাম বলেন, আড়ত থেকে চাল কিনতে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে আমাদের। গত ১০ দিনে দাম বেড়েছে। প্রতি বস্তায় ৩০০-৫০০ টাকা বাড়তি।

কামাল অটোরাইস মিলের স্বত্বাধিকারী কামাল হোসেন বলেন, এখন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ধান মজুত করে রেখেছেন। তারা বাড়তি দাম না পেলে ধান ছাড়ছেন না। ফলে তাদের কাছ থেকে বেশি দামেই ধান কিনতে হচ্ছে। আমাদের খরচও আছে। এ কারণে বেশি দামে চাল বিক্রি করতে হচ্ছে।

রাজশাহী চালকল মালিক সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, চালের দাম বাড়লেই আমাদের দোষ হয়; কিন্তু এখন ধানের দাম বাড়তি থাকায় চাল করতে বেশি খরচ পড়ছে। এ কারণে মিল থেকে দাম বাড়ানো হয়েছে। কৃষকদের পাশাপাশি ধানের মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ধান মজুত করছেন। দাম বেশি না পেলে বিক্রি করছেন না। চালের বাজারে তার প্রভাব পড়েছে।

রাজশাহী জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ইব্রাহিম হোসেন বলেন, চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে অভিযান চলছে। চাল ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হচ্ছে। এরপরও যারা সতর্ক হচ্ছেন না, তাদের জরিমানা করা হচ্ছে।