ডিএনএন ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, গোটা বিশ্ব এখন জ্বালানি সংকটের মুখে। সংঘাতের আগে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬০ থেকে ৭০ ডলারের মধ্যে থাকলেও বর্তমানে তা ১০০ ডলার ছাড়িয়ে ১১০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। অর্থাৎ কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে তেলের দাম প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হলো সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যাঘাত। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সংঘাত তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
অন্যদিকে, ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মোট ক্রুড অয়েল বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটি কার্যত বন্ধ করে রেখেছে ইরান। ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পরও এটি পুনরায় চালু হয়নি।
এর ফলে তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোকে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা যাতায়াতের সময় বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি শিপিং ও বীমা খরচও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ আরও ধীর হয়ে পড়েছে।
এ পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আইইএ বলছে, সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটি অন্যতম বড় তেল সরবরাহ সংকট। গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথে তেল পরিবহন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করে জানিয়েছে, এই সংঘাত কতদিন চলবে এবং অবকাঠামোর কতটা ক্ষতি হয়েছে- তার ওপর তেলের দামের প্রভাবের স্থায়িত্ব নির্ভর করবে।
সহজ সমাধান নেই
সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলের অনেক তেল উত্তোলন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা বন্ধ হয়ে গেছে। এসব স্থাপনা পুনরায় চালু করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করাও সময়সাপেক্ষ।
আইএমএফ ও বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার মতে, এমন পরিস্থিতি থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
এদিকে, বৈশ্বিক বাজারে ধাক্কা সামাল দেওয়ার মতো অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতাও সীমিত। ওপেকের অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা কয়েকটি দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকায় সংকট দ্রুত কাটার সম্ভাবনা কম। ফলে যুদ্ধ শেষ হলেও তেলের দাম দ্রুত কমার সম্ভাবনা নেই।
বাড়বে মুদ্রাস্ফীতি
তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। পণ্য পরিবহন খরচ বেড়ে যাবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে নিত্যপণ্যের দামে।
এছাড়া সার উৎপাদনে জ্বালানির ব্যবহার বেশি হওয়ায় কৃষিখাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি বিমান পরিবহন, রাসায়নিক শিল্প ও উৎপাদন খাতেও ব্যয় বৃদ্ধি পাবে।
ফলে সামগ্রিকভাবে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য সামনে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।