২৪ কার্তিক, ১৪৩৩
০৮ নভেম্বর, ২০২৬

বাংলাদেশের শুল্ক প্রত্যাহারের পর ভারতে বাড়ল চালের দাম

Admin Published: August 16, 2025, 6:48 pm
বাংলাদেশের শুল্ক প্রত্যাহারের পর ভারতে বাড়ল চালের দাম

ডিএনএন ডেস্ক: বাংলাদেশের ৫ লাখ টন শুল্কমুক্ত চাল আমদানির ঘোষণার পর ভারতে চালের বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। গত দু'দিনে দেশটিতে বিভিন্ন ধরনের চালের দাম ১৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বাংলাদেশের এই ঘোষণার পরপরই ভারতীয় ব্যবসায়ীরা চাল রপ্তানির জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। যার ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা ও সরবরাহে সাময়িক ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হয়েছে।


ভারতের সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারের ঘোষণার পর বিভিন্ন চালের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ভোক্তা পর্যায়ে স্বর্ণা চালের দাম প্রতি কেজি ৩৪ রুপি থেকে বেড়ে ৩৯ রুপি, মিনিকেট ৪৯ রুপি থেকে বেড়ে ৫৫ রুপি, রত্না চাল ৩৬-৩৭ রুপি থেকে বেড়ে ৪১-৪২ রুপি এবং সোনা মসুরি ৫২ রুপি থেকে বেড়ে ৫৬ রুপি কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।


ভারতের চাল রপ্তানি ও বিপণন প্রতিষ্ঠান রাইসভিলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুরজ আগরওয়াল বলেন, বুধবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড শুল্ক প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ার পর সেদিন রাত থেকেই ভারত থেকে চালের ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করতে শুরু করে। তিনি আরও জানান, পরিবহন খরচ ও সুবিধার কারণে উত্তরপ্রদেশ এবং দক্ষিণ ভারতের চালকলগুলোও পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে চাল রপ্তানি করছে।


পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ ও দক্ষিণ ভারতের ব্যবসায়ীরা আগে থেকেই বাংলাদেশের শুল্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের বিষয়ে অবহিত ছিলেন। তাই তারা পেট্রাপোল সীমান্তের গুদামে চাল প্রস্তুত রেখেছিলেন।


দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাংলাদেশ সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশে চালের দাম ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে ১৩ লাখ টন চাল আমদানি করতে হয়েছিল।


অন্ধ্রপ্রদেশের চালকল মালিক সি কে রাও বলেন, আমার ট্রাকগুলো বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে।


চাল রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান হালদার ভেঞ্চার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেশব কুমার হালদার বলেন, বিশ্ববাজারে চালের সরবরাহ ভালো থাকায় এবং ভারতে সরকারি ও বেসরকারি মজুত যথেষ্ট পরিমাণে থাকায় বৈশ্বিক দাম কিছুটা কমেছিল। বাংলাদেশের এই আমদানি আদেশ ভারতীয় বাজারে চাহিদা তৈরি করে বিশ্বব্যাপী চালের দামের পতনকে আংশিকভাবে মোকাবিলা করতে সাহায্য করবে।