স্টাফ রিপোটার , চারঘাট: বিভিন্ন এনজিও থেকে কেউ ঋণ নিয়েছিলেন গরু ছাগল পালনের আশায়। কেউ ছোট ব্যবসাকে বড় করে দাঁড় করাতে। কেউ আবার পারিবারিক প্রয়োজনে। সময়মতো সেই সব এনজিওর ঋণের কিস্তি দিতে না পেরে ঋণ করেছেন আরও একাধিক সংস্থায়। এছাড়াও এক পর্যায়ে এনজিওদের ঋন দেয়া বন্ধ হলে অনেকেই এনজিওদের কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে এলাকার সুদকারবারীদের কাছে চড়া সুদে টাকা নিয়ে পড়েছেন আরও বেকায়দায়। এতে ঋণের চক্র থেকে আর বের হতে পারেননি তারা। এখন ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে কেউ ছেড়েছেন বসত বাড়ী, কেউ গেছেন আত্মগোপনে। এনজিও ও অবৈধ সুদকারবারীদের অত্যাচারে অনেকেই হয়েছেন বাড়ী ছাড়া। আবার অনেকেই গেছেন আত্মগোপনে। তথ্যানুসন্ধানে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায় এমন চিত্র।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়,চারঘাট ও বাঘা উপজেলায় ঋণগ্রস্ত ১০টি নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সবাই আজ আত্ম গোপনে। প্রতিটি পরিবার একই সঙ্গে একাধিক এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছিল। তারা সেই সব এনজিওদের কিস্তির টাকা সঠিক সময়ে দিতে না পারায় চড়া সুদে টাকা নিয়ে হয়েছেন দেশান্তরি। পরিবার পরিজনদের নিয়ে এখন তারা কোথায় আছেন। কেমন আছেন,কেউ জানে না।
চারঘাট বাজারের এক সময়ের বড় কাপড় ব্যবসায়ী বিশ্বাস বস্ত্রালয়ের মালিক সানাউল্লাহ সুধকারবারী ও বিভিন্ন এনজিওর চাপে বাড়ী ঘর ছেড়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাতের আধারে চলে গেছেন আত্মগোপনে। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সানাউল্লাহ এখন কোথায় আছেন,কেমন আছেন। কেউ জানে না। সানাউল্লাহ ছাড়াও মুংলি গ্রামের সেলিম হোসেন,আব্দুস সামাদ,ও মা¦নিুল হক বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সেই এনজিওর কিস্তির টাকা সঠিক সময়ে দিতে না পারায় সুদ কারবারির কাছ থেকে টাকা নিয়ে এখন বাড়ী ছাড়াও। এখন এরা সবাই সপরিবার পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এছাড়াও চারঘাটের কালুহাটিতে জুতার কারখানা করে অনেকেই ঋণ নিয়ে পথে বসে গেছেন। সেই রকম একজন আলমগীর হোসেন স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বাড়ি ছেড়েছেন। বাড়িতে তাঁর মা বাবা আছেন। তাঁরাও বলতে পারেন না, ছেলে কোথায় আছেন। কালুহাটি বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, তাঁদের বাজারের অন্তত ১০ ব্যবসায়ী ঋণগ্রস্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজনের আর ঋণ শোধ করার কোনো উপায় নেই।
এ ছাড়াও বনকিশোর গ্রামের ঋণে জর্জরিত ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি মিঠন দাস ফেসবুক লাইভে তাঁর দুঃখের কথাগুলো বলে রাতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। তিনি প্রথমে সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবসা শুরু করেছিলেন। তখন ঋণ করেছিলেন। ব্যবসা করে ঋণ শোধ করতে পারেননি। পরে ওষুধ কোম্পানিতে ঢুকেছিলেন। কোম্পানির তিন লাখ টাকা পকেটমার নিয়ে নেয়।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়,চারঘাট উপজেলা সদর ছাড়াও,মুংলী,বনকিশোর,কালোহাটি,ফরিদপুর মোড়,বামনদীঘি, ইউসুফপুর,কাকরামারী,পরানপুর,বাঘার মীরগঞ্জ ,বারশত দিয়াড়,মহদীপুর, বিনোদপুর এলাকার কয়েকজন সুদ কারবারীর আয়ের উৎসই সুদেরকারবারী করা। এসব সুদ কারবারীরা এখন চড়া সুদে টাকা দিয়েহয়েছেন আঙগুল ফুলে হয়েছেন করা গাছ। এসব সুদ কারবারীদের চিহিৃত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি এলাকাবাসীর।
রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, সুদকারবারীদের ব্যাপারে সঠিক তথ্য পেলে যাচাই বাছাই করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে ভুক্তভোগীরা এসব অবৈধ সুদ কারবারীদের বিরুদ্ধে প্রতারনার মামলা করতে পারেন।