স্টাফ রিপোর্টার: পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি বলেছেন, পদ্মার পানি শুধু পানি নয়, এটি বাংলাদেশের মানুষের অস্তিত্বের প্রশ্ন। এই অস্তিত্বের প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। পদ্মার পানির জন্য প্রয়োজনে আবারও মাওলানা ভাসানীর মতো লংমার্চের কর্মসূচিতে শামিল হতে একবিন্দু দেরি করা হবে না।
শনিবার রাতে রাজশাহীর কাটাখালীতে দলের এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। কাটাখালী পৌর এনসিপি আয়োজিত এই পথসভায় আখতার হোসেন বলেন, ‘রাজশাহী থেকে পূর্বপুরুষেরা মাওলানা ভাসানীর ফারাক্কা লংমার্চে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সেই লংমার্চের ঘটনা আবারও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। কারণ, আসছে ডিসেম্বরে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। পদ্মার পানির ব্যাপারে বাংলাদেশের মানুষ একবিন্দু ছাড় দেবে না।’মানচিত্র দেখুন
তিনি বলেন, ‘ফারাক্কা হওয়ার আগে পদ্মায় যে পরিমাণ পানি আসত, ফারাক্কা হওয়ার পরে তা অর্ধেকে নেমে গেছে। এতে বাংলাদেশের মানুষকে বঞ্চিত হতে হয়েছে। পদ্মার সব শাখানদী-উপনদীতে শুষ্ক মৌসুমে পানি পাওয়া যায় না। খুলনা অঞ্চলে সমুদ্র থেকে নোনা পানি উজানে চলে আসছে পদ্মার শাখা-উপশাখায় পানি নেই বলে। বাংলাদেশের কৃষিকে ধ্বংস করা এবং এ দেশের মানুষকে অধিকারবঞ্চিত করার নীলনকশা বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না।’
পানির নায্য হিস্যা আদায়ে সরকারকে তৎপর থাকার আহ্বান জানিয়ে আখতার বলেন, ‘দেশের মানুষের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তিতে একবিন্দু ছাড় দেওয়া চলবে না। আমাদের ন্যায্য হিস্যা আমাদের আদায় করে নিতে হবে। আর যদি কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র করা হয়, যদি এ দেশের মানুষের জীবনের অস্তিত্ব নিয়ে কোনো প্রশ্ন তৈরি করা হয়, তাহলে আবারও মাওলানা ভাসানীর মতো করে লংমার্চের মতো কর্মসূচিতে শামিল হতে একবিন্দু দেরি করব না।’
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়েও বক্তব্য দেন এনসিপির এই সদস্যসচিব। সরকারের সমালোচনা তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকার আগের মতো করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে দুরভিসন্ধি করেছে। এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নতুন ফর্মুলা নিয়ে বিএনপি যে দুরভিসন্ধি করেছে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। বিএনপি যদি মনে করে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে কব্জা করে বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে চলে যাবে, সেই সুযোগ দেশের মানুষ দেবে না।’সরকারি সেবা
পথসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপির রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা এনসিপির আহ্বায়ক এম এ সবুর, সদস্যসচিব নাহিদুল ইসলাম সাজু, মহানগরের আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলী প্রমুখ। কাটাখালী পৌর এনসিপির আহ্বায়ক মাসউদুল ইসলাম সভাপতিত্ব করেন। পরিচালনা করেন সদস্যসচিব শফিকুল ইসলাম সজীব।