২৩ কার্তিক, ১৪৩৩
০৮ নভেম্বর, ২০২৬

মানুষের ভিড়ে, মানুষের সাথে

Admin Published: November 7, 2026, 11:31 pm
মানুষের ভিড়ে, মানুষের সাথে

ডিএনএন ডেস্ক: রাস্তার দুপাশে মানুষ। বাড়ির ছাদে কোলাহল। এদিক সেদিক থেকে এগিয়ে আসছে বিস্ময়ের হাত, সাদা শার্ট পরা লোকটাকে একবার ছুঁয়ে দেখার আশায়। রাজপথে তিনি হাঁটছেন। দেশের প্রধানমন্ত্রী নাকি সাধারণ কোনো মানুষ ঠিক; বোঝার উপায় নেই। ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরে ঢাকার রাস্তায় এভাবে ধরা দিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জ্যেষ্ঠপুত্র তারেক রহমান। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


শনিবার বিকেলে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে নয়াপল্টন থেকে শুরু হয় এই শোভাযাত্রা। কাকরাইল, প্রধান বিচারপতির বাসভবনের পাশ দিয়ে হেয়ার রোড, মিন্টো রোড, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে এগিয়ে যায় জনস্রোত। বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে শোভাযাত্রাটি মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে পৌঁছে শেষ হয়।


শোভাযাত্রার পুরো পথজুড়েই ছিল মানুষের উপস্থিতি। নয়াপল্টন থেকে শুরু করে কাকরাইল, বাংলামোটর ও ফার্মগেট—রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া মানুষের ঢল নামে। কারও হাতে জাতীয় পতাকা, কারও হাতে দলীয় পতাকা। প্ল্যাকার্ডে শোভা পাচ্ছিল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি। নানা রঙের টুপি ও টি-শার্ট পরা নেতাকর্মীদের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে রাজপথ।


শোভাযাত্রায় শুধু দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারাই ছিলেন না, অংশ নেন বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সমর্থকরা। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও আশপাশের জেলা থেকে আসা মানুষের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজন পরিণত হয় বিশাল জনসমাগমে।


শোভাযাত্রার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দৃশ্য ছিল প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ পথ হেঁটে অতিক্রম করা। প্রটোকল ও আনুষ্ঠানিকতার বলয় ভেঙে রাজপথে হাজারো জনতাকে সঙ্গে নিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রায় ছয় কিলোমিটার পথ হেঁটেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রের সরকারপ্রধান হয়েও দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকদের ভিড়ে মিশে তার এই পথচলা ছিল দিনের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। জনতার ভিড়ের মধ্যেই মানুষের সঙ্গে হেঁটে, স্লোগান আর অভিবাদনের মধ্য দিয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে পৌঁছান তিনি।


শোভাযাত্রা শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সার্বভৌমত্ব ও বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘দেশ স্বাধীনের পর থেকে যে মহল বাংলাদেশে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, মানুষের অধিকার, ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করত...জনগণ তাদের পরাজিত করেছে। আবারও তারা ষড়যন্ত্র নিয়ে মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে। আসুন, আজ এই জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, যেকোনো মূল্যে আমরা আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব এবং বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করব। এটাই হোক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের প্রতিজ্ঞা।’


রাজনীতির মাঠে জনসম্পৃক্ততার দৃশ্য নতুন নয়। তবে ৭ নভেম্বরের এই শোভাযাত্রায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হেঁটে যাওয়া, হাজারো মানুষের সঙ্গে একই কাতারে তার পথচলা এবং রাজপথজুড়ে মানুষের উপস্থিতি দিনটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।