ডিএনএন ডেস্ক: বয়স ৩০ না পেরোতেই ৩২ হাজার কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিক বনে গেছেন ব্রাজিলীয় উদ্যোক্তা লুয়ানা লোপেস লারা।বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নারী বিলিয়নিয়ারদের একজন তিনি। তার জীবনযাপন অবশ্য অন্য ধনকুবেরদের মতো নয়। বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার পরও প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা কাজ করেন তিনি। এমনকি ছুটি নেওয়ার অভ্যাসও নেই বললেই চলে।
লুয়ানা জনপ্রিয় প্রেডিকশন মার্কেট প্ল্যাটফর্ম ‘কালশি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও)। তিনি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, বিলিয়নিয়ার হওয়ার পরও তার দৈনন্দিন জীবনযাত্রা কিংবা খাদ্যাভ্যাসে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। কালশিকে এগিয়ে নেওয়াই এখন তার প্রধান লক্ষ্য।
প্রযুক্তি উদ্যোক্তা হওয়ার আগে লুয়ানা ব্রাজিলে পেশাদার ব্যালেরিনা হওয়ার প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা এই নারী এখনো নিজের বিলিয়নিয়ার পরিচয়ের সঙ্গে পুরোপুরি অভ্যস্ত নন।
কালশি একটি প্রেডিকশন মার্কেট প্ল্যাটফর্ম। এখানে ব্যবহারকারীরা নির্বাচন, খেলাধুলা, অর্থনীতি ও অন্যান্য ভবিষ্যৎ ঘটনা নিয়ে পূর্বাভাসভিত্তিক চুক্তিতে লেনদেন করতে পারেন।
প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্যও দ্রুত বেড়েছে। ২০২৫ সালের জুনে কালশির মূল্যায়ন ছিল প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার। মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে, ওই বছরের ডিসেম্বর নাগাদ তা বেড়ে দাঁড়ায় ১১ বিলিয়ন ডলারে। পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের মে মাসে প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন ২২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।
এ ছাড়া রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার মূল্যায়নে আরও ১ বিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহের আলোচনা চলার কথা উঠে এসেছে। তবে এ ধরনের বিনিয়োগ আলোচনা চূড়ান্ত চুক্তি বা সম্পন্ন তহবিল সংগ্রহের নিশ্চয়তা দেয় না।
দ্রুত সম্প্রসারণের পাশাপাশি আইনি জটিলতারও মুখোমুখি হচ্ছে কালশি। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্য প্রতিষ্ঠানটির খেলাধুলাসংক্রান্ত চুক্তিগুলোকে অবৈধ জুয়া হিসেবে বিবেচনা করে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে।
তার বিশ্বাস, প্রেডিকশন মার্কেট মানুষকে নিজেদের পূর্বাভাসের পক্ষে আর্থিকভাবে অবস্থান নেওয়ার সুযোগ দেয়। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ঘটনা সম্পর্কে আরও কার্যকর পূর্বাভাস তৈরি করা সম্ভব।
কালশির আরেক সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী তারেক মনসুরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটির চলমান আইনি বিরোধ শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াতে পারে।