ডিএনএন ডেস্ক: ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার নতুন চুক্তির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ কেনার জন্য বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর। গতকাল রোববার রাতে সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাষ্ট্রদূত গর উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একটি ‘অবিশ্বাস্য চুক্তি’ হয়েছে। এই চুক্তির অধীনে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের উড়োজাহাজের আগের অর্ডারের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে বাংলাদেশ।
পোস্টে তিনি লেখেন, ‘এই সপ্তাহেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আরেকটি অবিশ্বাস্য চুক্তি করেছেন, যেখানে বাংলাদেশ বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার জন্য বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা তাদের আগের অর্ডারের চেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি।’ তবে ওই চুক্তিতে কতটি বা বোয়িংয়ের ঠিক কোন মডেলের উড়োজাহাজ কেনাবেচার কথা বলা হয়েছে এবং এর মোট আর্থিক পরিমাণ কত, সে বিষয়ে কিছু বলেননি গর।
৩০ জুলাই থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করেন সার্জিও গর। এর পর গতকাল এই পোস্ট করলেন তিনি। তবে সার্জিও গরের এই তথ্যের বিষয়ে সরকারের কোনো মুখপাত্রের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনার ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের জুলাইয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বোয়িং কেনার পরিকল্পনা ১৪টি থেকে বাড়িয়ে ২৫টিতে উন্নীত করা হয়। পরে গত এপ্রিলে বিমানের সঙ্গে বোয়িংয়ের ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে চুক্তি হয়।
ওই চুক্তির অধীনে আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার ও চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স জেট উড়োজাহাজ কেনার কথা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা। ওই চুক্তি অনুযায়ী বোয়িংয়ের প্রথম উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালের নভেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা এবং বাকি উড়োজাহাজগুলো ২০৩৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে বিমানের বহরে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছিল।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ১০টি এয়ারবাস কেনার একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ব্যবধান কমানোর লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার পক্ষেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।