স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী : রাজশাহীর বাগমারার নরদাশ ইউনিয়ন পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা দায়িত্ব গ্রহণ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছেন। এসময় তাঁকে পরিষদে অবরুদ্ধ করা হয়। এসময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধলে ছয়জন আহত হন। প্রশাসককে অবরুদ্ধ করার প্রতিবাদে প্রতিপক্ষরা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে একটি ঘরে আটক রাখে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন গিয়ে বিকেল সাড়ে তিনটায় অবরুদ্ধদের উদ্ধার করে। পরে তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার সকালে এই ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বিএনপি এই ঘটনার জন্য উপজেলার আহ্বায়ক ডিএম জিয়াউর রহমানকে দায়ি করে তাঁকে বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর নরদাশ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম সারওয়ার আত্নগোপনে চলে যান। তিনি আওয়ামী লীগের উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক। তাঁর অনুপস্থিতিতে পরিষদের স্বাভাবিক কাজ চালানোর জন্য এক নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে পরিষদের অন্য সদস্যরা তাঁকে (রফিকুল ইসলামকে) আওয়ামী লীগের লোক আখ্যা দেন। তাঁকে অপসারণেরও দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন পরিষদের অন্য সদস্যরা।
গত ৩০ ডিসেম্বর রাজশাহী জেলা প্রশাসককে দপ্তরের স্থানীয় সরকার শাখা উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা তাজবুল ইসলামকে নরদাশ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ সকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক নরদাশ ইউনিয়ন পরিষদে যান দায়িত্ব গ্রহণ করতে। খবরটি জানার পর পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ও তাঁর লোকজন পরিষদের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
পরে মানবন্ধনে থাকা লোকজন চেয়ারম্যানের কক্ষের চেয়ার টেবিল ভাঙচুর করেন। এক পর্যায়ে প্রশাসককে শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত করে পরিষদের একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের লোকজন। খবর পেয়ে পরিষদের সদস্য আজাহার আলীর নেতৃত্বে একদল লোক ঘটনাস্থলে এসে অবরুদ্ধ প্রশাসককে উদ্ধারের চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে উভয় পক্ষের ছয়জন আহত হন। এক পর্যায়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের লোকজন পিছু হটে নরদাশ বাজারে অবস্থান নেন। সেখানে ইউপি সদস্য আজাহার আলীর বড়ভাই নরদাশ সৈয়দা ময়েজ উদ্দিন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমানকে মারপিট করে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে আটক করা হয়। খবর পেয়ে দুপুরে বাগমারার ইউএনও এবং থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরুদ্ধ প্রশাসক ও শিক্ষককে উদ্ধার করেন।
পরিষদের সদস্য আজাহার আলী বলেন, আওয়ামী লীগের লোকজনদের নিয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করা হয়েছে। তিনি (রফিকুল ইসলাম) নিজেও আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। তাঁরা প্রশাসককে মারপিট করে দায়িত্ব গ্রহণে বাধা দিয়েছেন। উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মোশারফ হোসেন অভিযোগ করেন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডিএম জিয়াউর রহমানের ইন্ধনে
এসব করা হয়েছে। তিনি দলে বিভক্তি ও গ্রুপিং তৈরি করেছেন। তবে ডিএম জিয়া এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি।
বাগমারা থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম দুপুরে জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। রফিকুল ইসলামকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। তবে এখনো মামলা হয়নি।
বাগমারার ইউএনও মাহবুবুল ইসলাম ইউনিয়নের প্রশাসককে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, রফিকুল ইসলামকে অবরুদ্ধ করা হয়েছিল। তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশে দেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হলে পুলিশ ব্যবস্থা নিবে।