৬ বৈশাখ, ১৪৩৩
১৯ এপ্রিল, ২০২৬

বাগমারায় পুকুরের পাহারাদারকে বেঁধে ৯ লাখ টাকার মাছ লুট

Admin Published: January 17, 2025, 5:38 pm
বাগমারায় পুকুরের পাহারাদারকে বেঁধে ৯ লাখ টাকার মাছ লুট প্রতিকী ছবি

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর বাগমারায় এক ব্যবসায়ীর পুকুর থেকে প্রায় ৯ লাখ টাকার লুট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাহারাদারকে বেঁধে রেখে মাছ লুট করে উপকরণ ফেলে পালিয়ে যায়। এসময় লোকজন ধাওয়া করে কয়েকজন ভাড়াটে জেলেকে আটক করলেও তাদের থানায় দেওয়া সম্ভব হয়নি। পুকুর মালিকের অভিযোগ, স্থানীয় এক শিক্ষকের নেতৃত্বে মাছ লুট করা হয়। পুলিশের সহযোগিতা চেয়েও পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করা হয়। 

উপজেলার নন্দনপুর গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক জানান, তিনি ইসলাবাড়ি গ্রামের ৭০ জনের কাছ থেকে ২০ বিঘা জমি ১০ বছরের জন্য ইজারা নিয়ে সেখানে পুকুর খনন করে মাছ চাষ করে আসছিলেন। পুকুরে রুই, কাতলসহ বিভিন্ন কার্প জাতীয় ১৫-১৬ লাখ টাকার মাছ ছিল। 

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কয়েকটি ভটভটি নিয়ে ২৫-২৬ জন লোক পুকুরে আসেন। তারা পুকুরের ধারে থাকা বিদ্যুতের আলো নিভিয়ে পাহারাদা রহিদুল ইসলামে রশি দিয়ে হাত -পা বেঁধে ফেলেন। পরে পুকুরে জাল নামিয়ে মাছ লুট করে ভটভটিতে করে নিয়ে যান। এসময় পাহারাদারের চিৎকার এবং ভটভটির শব্দে কিছু লোকজন টের পান। লোকজন পুকুর মালিককে জানালে তিনি ঘটনাস্থলে আসেন এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে সহযোগিতা চান। জাতীয় জরুরি সেবা থেকে স্থানীয় থানার সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হয়। তবে  থানার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও ঘটনাস্থলে যায়নি বলে অভিযোগ করা হয়। 

পরে লোকজন ধাওয়া করে কয়েকজন জেলেকে ধরে ফেলেন। তারা জানান, ওই গ্রামের ওমর আলী ভাড়া করে নিয়ে এসেছিলেন মাছ ধরার জন্য। তারা পেশাদার জেলে বলে জানান। পরে তাদের জবানবন্দি  মোবাইলে ধারণ করে দেওয়া হয়। পরে থানা পুলিশের পরামর্শে শুক্রবার সকালে জেলেদের ফেলে যাওয়া একটি অটোভ্যান, জালসহ মাছ ধরার উপকরণ জব্দ করে থানায় আনা হয়। 

ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হকের অভিযোগ, স্থানীয় স্কুলশিক্ষক ওমর আলী ইজারাদারের কাছ থেকে পুকুর ইজারার শুরুতে মোটা অংকের টাকা দাবি করেন। তবে ব্যবসায়ী তার প্রস্তাবে রাজি না হলে ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নাজেহালের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। স্থানীয় ভাবে তিনি প্রভাবশালী। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলাও রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।  

ব্যবসায়ীর অভিযোগ থানায় জানানোর পরেও পুলিশের সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। ওমর আলী স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ার কারণে এলাকায় তার প্রভাব আছে। তিনি স্থানীয় একটি টেকনিক্যাল কলেজের শিক্ষক।

এই ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক ওমর আলীর মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। বাগমারা থানার উপপরিদর্শক আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনা জানার পর থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।