রাবি প্রতিনিধি: ঢাকায় আদিবাসী ছাত্র -জনতার পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে স্টুডেন্ট ফর সভারেন্টির হামলার প্রতিবাদে মশাল মিছিলের আয়োজন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট থেকে শুরু হয়ে ক্যা¤পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বুদ্ধিজীবি চত্বরে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।
মশাল মিছিল পরবর্তী হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহবায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, আমাদের দেশে মুসলমান এবং হিন্দুরা যেভাবে বসবাস করে ঠিক তেমনি আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে সেই অধিকার দিতে হবে। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে রেখে দিছে। তাদেরকে তাদের মৌলিক অধিকার দিতে চাচ্ছে না। সরকারকে দাবি জানাচ্ছি তারা যেন পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। বই থেকে গ্রাফিতি সরিয়ে ফেলার বিষয়ে সরকারকে সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। তাদের উপর হামলার নিন্দা জানাই আমরা।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহবায়ক রাকিব হোসেন বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দেশে আবারও রক্ত ঝরিয়েছে। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পরিচয় না দিয়ে তাদের সাংবিধানিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। পাহাড়ী অঞ্চলে সেনাবাহিনির শাষন বন্ধ করতে হবে।আওয়ামী স্টাইলে যারা হামলা করেছে তাদের বিচারের আওতায় আনার জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।
এসময় পার্বত্য চট্রগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি জিনিস চাকমা বলেন, আজকে ঢাকায় পাহাড়ি ছাত্রদের উপর যে হামলা করা হয়েছে তা পরিকল্পিত। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও দেশে গণতান্ত্রিক শাষন প্রতিষ্ঠা হচ্ছে না। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিবাদে হামলা করা হয়েছে। যেটা কখনো একটি স্বাধীন দেশে কাম্য না। ৫ আগষ্টের আন্দোলনে আমরা ফ্যাসিবাদি আওয়ামীলীগকে তাড়াতে সক্ষম হয়েছি। সুতরাং স্টুডেন্ট ফর সভারেন্টির সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ করতে আমরা সক্ষম হবো
জাতিগত বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা চালাচ্ছে জানিয়ে বিপ্লব ছাত্র মৈত্রীর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি শাকিল হোসেন বলেন, কিছু কুচক্রীমহল জাতিগত বিভাজন এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। পাহাড়িরা গনতান্ত্রিক কায়দায় তাদের দাবি তুলে ধরেছে। কিন্তু তাদেরকে ছাত্রলীগের মতো সন্ত্রাসী কায়দায় হামলায় করছে। আমরা সাম্প্রদায়িক এবং জাতিগত বিভাজনের রাজনীতি করতে দিব না। দ্রুত হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
উল্লেখ্য, বুধবার( ১৫ জানুয়ারী) পাঠ্যবই থেকে ‘আদিবাসী’ শব্দযুক্ত চিত্রকর্ম বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ভবনের সামনে অবস্থান নেওয়া পাহাড়ি ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালায় স্টুডেন্ট মুভমেন্ট ফর সভারেন্টি’ নামের সংগঠনের সদস্যরা। এ ঘটনায় সাংবাদিকসহ ৯ জন আহত হয়েছেন। এসময় বিভিন্ন সংগঠনের প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী মশাল মিছিলে উপস্থিত ছিলেন।