ডিএনএন ডেস্ক: পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা ফেরাতে পুরস্কার ও জরিমানা প্রথা চালু করতে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড। এতদিন র্যাঙ্কিংয়ের ৯ নম্বর দল পর্যন্ত কাউকে হারালেই বোনাস পেতেন লঙ্কান ক্রিকেটাররা। এখন থেকে কেবল র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ৪ দলের বিপক্ষে সিরিজ জিতলেই মিলবে বোনাস। বাংলাদেশ বা আফগানিস্তানের মতো নিচের সারির দলের বিপক্ষে সিরিজ জিতলে কোনো অতিরিক্ত অর্থ পাবেন না তারা।
নতুন নীতি অনুযায়ী, যেকোনো সংস্করণে সিরিজ হারলেই গুনতে হবে জরিমানা। সিরিজ হারলে ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি থেকে ১০ শতাংশ অর্থ কেটে নেওয়া হবে। বিশেষ করে র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ বা আফগানিস্তানের কাছে হারলে এই জরিমানা অবধারিত।
শ্রীলঙ্কার সংবাদমাধ্যম দ্য সানডে টাইমস জানিয়েছে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই ক্রিকেটারদের হাতে এই নতুন চুক্তির কাগজ তুলে দেওয়া হবে।
বর্তমানে টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে শ্রীলঙ্কা অবস্থান করছে ছয় নম্বরে। বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে রয়েছে ৯, ১১ ও ১২ নম্বরে। আর টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে অবস্থান করছে আট থেকে ১১ নম্বরে। ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কার অবস্থান ছয় নম্বরে। সাদা বলের এই সংস্করণে লঙ্কানদের পরই রয়েছে আফগানরা (সাত নম্বরে)। বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের অবস্থান ৯ ও ১১ নম্বরে।
বিদেশে টেস্ট সিরিজে র্যাংকিংয়ের ১ নম্বর দলকে হারালে দেড় লাখ ডলার বোনাস পাবেন শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটাররা। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। র্যাঙ্কিংয়ের দুই, তিন ও চারে থাকা দলকে হারালে লঙ্কান ক্রিকেটাররা পাবেন ১ লাখ ডলার (১ কোটি ২২ লাখ টাকা), ৭৫ হাজার ডলার (৯২ লাখ টাকা) এবং ৬০ হাজার ডলার (৭৩ লাখ টাকা) বোনাস দেওয়া হবে। আর ঘরের মাঠে র্যাঙ্কিংয়ের এক থেকে চার নম্বর দলের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জিতলে ১ লাখ ডলার, ৭৫ হাজার ডলার, ৫০ হাজার ডলার এবং ২৫ হাজার ডলার করে বোনাস পাবেন ক্রিকেটাররা।
ওয়ানডেতে এক থেকে চার নম্বর দলের বিপক্ষে অ্যাওয়ে সিরিজ জিতলে দেড় লাখ, এক লাখ, ৮০ হাজার এবং ৭০ হাজার ডলার করে বোনাস দেওয়া হবে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের। হোম সিরিজ জিতলে সেই সংখ্যাগুলো হবে অর্ধেক। টি-টোয়েন্টিতে হোম ও অ্যাওয়ে দুই সিরিজেই জিতলে সমান সংখ্যক বোনাস দেওয়া হবে। যা ওয়ানডেতে অ্যাওয়ে সিরিজ জয়ের বোনাসের সমান।
লঙ্কান ক্রিকেটারদের জন্য ম্যাচ ফিতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। টেস্ট জিতলে মিলবে ১৫০০০ ডলার, ড্র করলে ১,০০০ এবং হারলে বা ফল না হলে মাত্র ৭৫০০ ডলার। ওয়ানডে জয়ের জন্য ৭৫০০ ডলার, হারের জন্য ৩৫০০ এবং ফল না হলে ৩০০০ ডলার। টি-টোয়েন্টি জয়ের জন্য ৫০০০ ডলার ও হারের জন্য ২৫০০ ডলার।
এ ছাড়াও অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রতি টেস্ট ও ওয়ানডেতে বাড়তি ১০০০ ডলার এবং টি-টোয়েন্টিতে ৫০০ ডলার করে পাবেন অধিনায়ক। র্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বর স্থান অর্জন করতে পারলে ক্রিকেটারদের এককালীন ২৫,০০০ ডলার বোনাসও দেবে বোর্ড।
এক সাক্ষাৎকারে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের প্রধান নির্বাহী অ্যাশলে ডি সিলভা বলেন, ‘নতুন এই আর্থিক নীতিমালা কেবল খেলোয়াড় নয়, কোচদের জন্যও প্রযোজ্য হবে। আমরা এমন একটি সিস্টেম করেছি যেখানে জিতলে তারা যেমন লাভবান হবে, তেমনি হারলে যেন তারা আর্থিকভাবে খারাপ বোধ করে।’
শ্রীলঙ্কার নতুন প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি গ্যারি কারস্টেনও এই পরিকল্পনার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে কারস্টেন বলেন, ‘শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সুযোগ-সুবিধা দক্ষিণ আফ্রিকার চেয়েও অনেক এগিয়ে। আমার প্রথম কাজ হলো খেলোয়াড়দের সংস্কৃতি ও মোটিভেশন বোঝা। বিশ্বকাপের জন্য একটি দক্ষ দল গড়া এবং বিশ্বের সেরা দলগুলোর বিপক্ষে লড়াই করাই আমার অগ্রাধিকার।’