ডিএনএন ডেস্ক: কুমিল্লার আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।রোববার (২৬ এপ্রিল) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই-এর পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম তাকে আদালতে হাজির করলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল আমান এ নির্দেশ দেন।
মামলার অন্য দুই প্রধান সন্দেহভাজন সার্জেন্ট জাহিদ ও সৈনিক শাহীন আলমকে গ্রেপ্তারে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বর্তমানে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৫২ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য হাফিজুর রহমান তনুকে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নিয়ে আসতেন এবং তার মাধ্যমেই তনুর সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে যাতায়াত শুরু হয়।
পিবিআই কর্মকর্তাদের মতে, হাফিজুর রহমান এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাক্রমের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। যদিও তিনি অত্যন্ত প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত এবং ডিজিএফআইর মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় কাজের অভিজ্ঞতা থাকায় তার কাছ থেকে তথ্য বের করা বেশ জটিল ছিল।
তবুও রিমান্ডে তার কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে বলে জানা গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে সেসব তথ্যের বিস্তারিত এখনই প্রকাশ করতে রাজি হননি কর্মকর্তারা।
এদিকে মামলার অপর দুই সন্দেহভাজন সার্জেন্ট জাহিদ ও সৈনিক শাহীন আলমের অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। পিবিআই ধারণা করছে, তাদের মধ্যে একজন ইতিমধ্যে দেশের বাইরে চলে গেছেন এবং অন্যজন দেশেই আত্মগোপনে আছেন। দেশে থাকা অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে বিশেষ দল।
তবে এই দুইজনের নাম নিয়ে তনুর পরিবার ও তদন্ত সংস্থার মধ্যে কিছুটা ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। তনুর বাবার দাবি, অভিযুক্ত সৈনিকের নাম জাহিদ। কিন্তু পিবিআইর তদন্তে শাহীন আলম নামে এক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে।
তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শাহীন ও জাহিদ দুজন সম্পূর্ণ আলাদা ব্যক্তি এবং তদন্তের মাধ্যমেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতর টিউশনি শেষে ফেরার পথে তনুর লাশ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ সময় পর বর্তমান সরকারের আমলে সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার ও ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও সাধারণ মানুষ।