১৮ বৈশাখ, ১৪৩৩
০১ মে, ২০২৬

জাতীয় নির্বাচনের আগে কোন নির্বাচন জনগণ মানবে না: রায়হান

Admin Published: November 1, 2025, 6:50 pm
জাতীয় নির্বাচনের আগে কোন নির্বাচন জনগণ মানবে না: রায়হান

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী জেলা বিএনপির সদস্য ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. রায়হানুল আলম রায়হান বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনের মধ্য দিয়েই দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের সরকার গঠন করতে চায়। দেশের জনগণ এখন পরিবর্তনের অপেক্ষায় আছে, তারা গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও সুশাসন ফিরে পেতে চায়। জনগণের ওপর অযথা নির্বাচনী চাপ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা যাবে না। তিনি আরও বলেন, “জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে আলাদা কোনো নির্বাচন জনগণ মানবে না। তাই আলাদাভাবে গণভোট আয়োজনের প্রস্তাব অপ্রয়োজনীয় এবং এটি নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করার একটি অপচেষ্টা মাত্র।”

শনিবার বিকেলে পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের গহমাবোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত ‘৩১ দফা রূপরেখা ও আগামী জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা’ শীর্ষক মতবিনিময় ও কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জনগণের ভোটেই পরিবর্তন আসবে মন্তব্য করে রায়হান বলেন,“যদি গণভোট করতেই হয়, তবে তা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই হওয়া উচিত। সেদিন দুটি ব্যালট থাকবে—একটি সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য, অন্যটি গণভোটের জন্য। একটি মহল নির্বাচন বিলম্বিত করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তবে বিএনপি বিশ্বাস করে, জনগণের রায়ই হবে চূড়ান্ত।”

তিনি আরও বলেন, “জনগণের ভোটের সঠিক মূল্যায়ন ‘পিআর পদ্ধতি’তে সম্ভব নয়। এই পদ্ধতিতে ভোট দিলে প্রার্থী নয়, কেবল প্রতীক দেখে ভোট দিতে হবে। এতে যোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থী বঞ্চিত হবে, যা গণতান্ত্রিক নির্বাচনের চেতনার পরিপন্থী।”

তিনি বলেন, বিএনপির ৩১ দফা রূপরেখা জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন। এর মাধ্যমে দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র, জবাবদিহি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। এই রূপরেখা বাস্তবায়ন করতে হলে আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের জয়ী করতে হবে।

রায়হান অভিযোগ করে বলেন, দেশে আজ গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা চরমভাবে সংকুচিত। বিএনপি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, জনগণের ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্তই আগামী নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করবে। বিএনপি ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তন চায়, সংঘাত নয়।”

তিনি আরও বলেন, “একটি গোষ্ঠী জনগণের গণতান্ত্রিক চেতনাকে ধ্বংস করতে চায়। তারা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে নানা প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করছে। আমরা চাই নির্বাচন হোক নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাক।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন হরিপুর ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রদল নেতা শফিকুল ইসলাম। পবা উপজেলা শ্রমিক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাজদার হোসেনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন হড়গ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ।