ডিএনএন ডেস্ক: জ্বালানি সংকটের কারণে দেশে লোডশেডিং তীব্র আকার ধারণ করেছে। গ্যাস ও ফার্নেস অয়েলের ঘাটতিতে প্রায় অর্ধশত বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। ফলে চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ ঘাটতি কখনো কখনো প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো সর্বোচ্চ সক্ষমতায় চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে।
রাজধানীর কাছের সাভারের চানগাঁও এলাকায় সন্ধ্যা নামলেই বাড়ছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। তীব্র গরমের সঙ্গে লোডশেডিং বাড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দিনে কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রচণ্ড গরমে সুস্থ থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ আসে কম, যায় বেশি। ফলে রাতে ঘুমানোও কষ্টকর হয়ে উঠেছে। অনেক সময় গরমে বাইরে বসে থাকতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি না থাকায় দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।
একজন দোকানি বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানে ক্রেতা কমে গেছে, বেচাকেনাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ঢাকা মহানগর ছাড়া দেশের বেশির ভাগ এলাকাতেই একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা ১৪ থেকে ১৬ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। বিপরীতে উৎপাদন সক্ষমতা বেশি থাকলেও জ্বালানির অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ঘাটতি বাড়ছে।
গ্যাস ও ফার্নেস অয়েলের সংকটে অর্ধশতাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে যেতে পারছে না। এ ছাড়া পর্যাপ্ত কয়লা সরবরাহ না থাকায় বড় দুটি কয়লাভিত্তিক বেসরকারি কেন্দ্রের উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। এতে দৈনিক লোডশেডিংয়ের পরিমাণ কখনো দুই হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বলেন, গ্যাসভিত্তিক উৎপাদন প্রত্যাশা অনুযায়ী হচ্ছে না। সরবরাহে কিছু বিঘ্ন থাকলেও তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি মৌসুমে পরিস্থিতি সহনীয় রাখতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো জরুরি। পাশাপাশি জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেনের মতে, কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো কখনোই পুরোপুরি ব্যবহার করা হয়নি। এখন তা নিশ্চিত করতে হবে, না হলে বড় ধরনের ঘাটতির ঝুঁকি রয়েছে।
এ ছাড়া লোডশেডিং বণ্টনে শহর-গ্রামের মধ্যে ভারসাম্য রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, গ্রামীণ এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ বঞ্চনা বেশি হচ্ছে, বিশেষ করে সন্ধ্যায়। তাই লোডশেডিংয়ের চাপ সবার মধ্যে সমানভাবে ভাগ করা প্রয়োজন।
গ্রীষ্মের শুরুতেই যেভাবে লোডশেডিং বাড়ছে, তাতে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সামনে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বেড়ে ১৮ হাজার মেগাওয়াট ছাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।