রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার টুকুরিয়া, বড় আলমপুর, চতরা ও কাবিলপুর মিলে চারটি ইউনিয়নের সীমান্ত ঘেঁষে রংপুর দিনাজপুর জেলাকে দ্বি-খন্ডিত করে প্রবাহিত হওয়া করতোয়া নদী।
তীরবর্তী গ্রামে কৃষকের প্রতিবছরই ভাঙ্গনের কারণে করতোয়ার গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ে। অভাব অনটন হয় তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। দীর্ঘসময় পর সেই করতোয়ার জেগে ওঠা বালুচরে এখন সবুজের সমারোহ। ক’বছর আগেও যেখানে কোনো ফসলই হতো না, সেখানে এখন দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত। বালুচরের জমিগুলো এখন আশির্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে করতোয়ার তীরবর্তী গ্রামের চির অভাবী কৃষকদের।
গম, ভুট্টা, গোলআলু, মিষ্টিআলু, মিষ্টিকুমড়া, মরিচ, টমেটোসহ বিভিন্ন প্রকার রবি ফসলের চাষ করে পরিবারগুলোর অনেকেই স্বচ্ছলতা এনেছে।
চর এলাকার গ্রাম কুয়াতপুরের বাসিন্দারা জানান, ক’বছর আগেও এই এলাকার মানুষের সংসারে অভাব-অনটন ছিল নিত্যসঙ্গী। বর্তমানে সেই অবস্থা আর নেই। করতোয়া নদীরধারে জেগেওঠা বালুচরের জমিগুলোতে বন্যায় পলি জমে যাওয়ায় সেগুলো এখন কৃষি জমিতে পরিনত হয়েছে।
রবি মওসুমে সেচের মাধ্যমে ওইসব জমিতে ফসল চাষাবাদ করে স্বাবলম্বী হয়েছে অনেকেই। বর্তমানে উল্লে-খিত গ্রামগুলোর প্রতিটি বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে। গুরুত্বপুর্ণ বেশ ক’টি রাস্তা পাকা হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তনও হয়েছে। ফলে করতোয়ার তীরবর্তী পিছিয়ে থাকা গ্রামগুলো এখন আলোকিত।
ওই এলাকার গ্রামগুলো ঘুরে দেখা গেছে, এক সময়ের ধূ-ধূ বালুচরে এখন দৃষ্টিনন্দন সবুজের সমারোহ। কাঁচামরিচ, টমেটো, গম, ভুট্টা, গোলআলু, মিষ্টিকুমড়া, মিষ্টিআলু বেগুনসহ নানা ধরনের রবি ফসলের চাষে ভরে গেছে। এসব জমিতে উঠতি ফসল দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়।
যে জমিতে এক সময় কোন ফসল ফলতো না। সেই জমিতে একরের পর একর ভুট্রার চাষ হয়েছে। গতবছর ভুট্টার বাম্পার ফলন ও দাম ভাল পাওয়ায় চাষিরা এবার আরও বেশী জমিতে ভূট্টার আবাদ করেছে। ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভূট্টার বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষিরা।