স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল্লাহ আল মাসুদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে রাজশাহীর মতিহার থানায় নিহতের ভাই মো. আয়াতুল্লাহ বেহেস্তী এ মামলা করেন। এতে অজ্ঞাত ২০-৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। রাজশাহী মেট্রপিলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত আব্দুল্লাহ আল মাসুদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিকেল সেন্টারে স্টোর অফিসার পদে কর্মরত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায়।
মামলার এজাহারে আয়াতুল্লাহ বেহেস্তী উল্লেখ করেন, আব্দুল্লাহ আল মাসুদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) হাসপাতালের স্টোরকিপার পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি গত ২০২২ সালের ডিসেম্বর রাবির মেডিকেল সেন্টারে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে মাসুদ রাবির জুবেরী অফিসার্স কোয়াটার্সে সপরিবারে বসবাস করে আসছিল।
গত ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টায় রাবির জুবেরী অফিসার্স কোয়াটার্স থেকে তার ব্যবহৃত স্কুটিযোগে (মোটরসাইকেল) নবজাতক সন্তান ও অসুস্থ স্ত্রীর ওষুধ আনতে বিনোদপুর বাজারস্থ ফার্মেসিতে গেলে অজ্ঞাতনামা কে বা কারা তাকে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী অনুসরণ করে। অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা মাসুদকে মতিহার থানাধীন অজ্ঞাত স্থানে প্রহার করে মুমূর্ষু অবস্থায় প্রথমে মহিতার ও পরে বোয়ারিয়া থানায় হত্যা মামলার আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখানোর জন্য নিয়ে যায়। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়। রামেক হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তার দ্রুত এক্স-রে করে এবং ৩১নং ওয়ার্ডে ভর্তি করেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, রামেক হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্স মাসুদকে বাঁচানোর জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেন। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালের ৩১ নং ওয়ার্ডে মৃত্যুবরণ করেন মাসুদ।
এ বিষয়ে মতিহার থানার ওসি আরিফুল ইসলাম বলেন, নিহতের ভাই বাদী হয়ে অজ্ঞাত ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।