স্টাফ রিপোর্টার : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীর-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে স্থানীয় বিএনপি প্রার্থী মনোনয়ের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী। সোমবার বিকেলে উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের আন্ধারকোঠা মোড়ে স্থানীয় প্রার্থীর দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেছে পবা উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এতে অংশ নেন উপজেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী।
মিছিলটি আন্ধারকোঠা মোড় থেকে শুরু হয়ে স্থানীয় বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় “স্থানীয় প্রার্থী চাই”ও “মিলনের মনোনয়ন বাতিল করো”- এসব স্লোগান মুখরিত হয়ে ওঠে।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, রাজশাহীর ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচ আসনে স্থানীয় প্রার্থী দেয়া হয়েছে, শুধুমাত্র রাজশাহী-৩ আসনে বহিরাগত প্রার্থী দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামত উপেক্ষা করে কেন্দ্র থেকে যেভাবে শফিকুল হক মিলনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তা তৃণমূলের কাছে অগ্রহণযোগ্য। বিক্ষোভ মিছিল থেকে বলা হয়, রাজশাহী-৩ আসনের জেলা বিএনপির সদস্য রায়হানুল আলম রায়হান একজন ত্যাগী, অভিজ্ঞ নেতা, তিনি দলের দুঃসময়ে মাঠে ছিলেন এবং তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করেছেন। অথচ তাকে উপেক্ষা করা হয়েছে। এতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সমাবেশে বক্তারা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে মিলনের মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানান। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে পরীক্ষিত নেতাকে রাজশাহী-৩ আসনে মনোনয়ন দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
হুজরীপাড়া ইউনিয়নের বিএনপি নেতা মুজিবুর রহমান বলেন,“রাজশাহী-৩ আসনে স্থানীয় প্রার্থী দেয়া হয় নাই। কিন্তু অন্য আসনগুলোতে স্থানীয় প্রার্থী দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে দল যখন কঠিন সময় পার করছে, তখন যারা রাজপথে ছিলেন না, তাদের হঠাৎ করে প্রার্থী করা হলে তৃণমূলের মনোবল ভেঙে যাবে।
হড়গ্ৰাম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ বলেন,“আমরা গুলির ভয় না পেয়ে, মামলা-হামলার ভয় না পেয়ে রাজপথে ছিলাম। এখন সেই ত্যাগের কোনো মূল্য নেই! বাইরে থাকা লোকেরা প্রার্থী হবে, আর আমরা কেবল হাততালি দেব—এটা মেনে নেওয়া যায় না। তাই আমরা স্থানীয় প্রার্থী চাই, দিতে হবে।
এসময় বক্তব্য রাখেন- হজরীপাড়া ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন, হড়গ্ৰাম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ, দামকুড়া ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি তরিকুল ইসলাম চুন্নু, হুজরীপাড়া ইউনিয়নের বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মজিবুর রহমান।