স্টাফ রিপোর্টার : ফাল্গুন আসতে এখনো ঢের বাকী। তবে এরইমধ্যে এবার আগাম আমের মুকুল এসেছে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার গাছে গাছে। আমের জন্য খ্যাতি অর্জনকারী জেলা রাজশাহীর চারঘাট ও বাঘায় সবচেয়ে বেশী আমের উৎপাদন হয়। এখানকার আম সবচেয়ে সুস্বাদু। সেই চারঘাটের গাছে গাছে এবার আগাম উঁকি দিয়েছে আমের মুকুল। পৌষের শেষেই এবার বসন্তের আগমনী বার্তা জানান দিচ্ছে আমের মুকুল। তবে চলমান শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় মুকুলের মুকুলে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন আম চাষিরা। তারা বলছেন, কুয়াশায় আমের মুকুল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বলছে, আমের মুকুল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কম। কুয়াশার পরে রৌদ্র উঠায় আমের মুকুল নষ্টের পরিবর্তে মুকুল আরো সতেজ হবে। তবে এ জন্য কিছু ছত্রাক জাতীয় কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন কৃষি অফিস।
জেলার চারঘাট উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানা গেছে, জেলায় ১৭ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। এরমধ্যে বাঘা ও চারঘাট উপজেলায় ৭০ শতাংশ আম চাষ হয়। বাকি ৩০ শতাংশ আম পুরো জেলায় চাষ হয়।
চারঘাট ও বাঘা উপজেলার আম চাষের সঙ্গে জড়িতরা বলছেন, চারঘাট উপজেলার নিমপাড়া, ভায়ালক্ষিপুর, চারঘাট সদর, সারদা ও শলুয়া এবং বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম, বাউসা, গড়গড়িয়া ইউনিয়নের অনেক বাগানেই আগাম মুকুল এসেছে। আর আগাম মুকুল আসায় চাষিদের মাঝে যেমন আনন্দ বইছে, তেমনি ঘনকুয়াশায় মুকুল নষ্টের আশঙ্কাও রয়েছে। সরেজমিনে চারঘাট ও বাঘা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।
চারঘাট উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়নের কালুহাটি গ্রামের আম চাষি বাহাদুর রহমান বলেন, প্রায় ৭ বিঘা জমিতে আমের বাগান রয়েছে। গত দুই বছর বাগানে মুকুল আসেনি। ফলে অনেক বাগান কেটে ফেলেছি। তবে এখন যেসব বাগান আছে সেগুলোতে আগে ভাগেই এবার মুকুল এসেছে। এতে মনে ব্যাপক আনন্দ বইছে। তবে কুয়াশায় মুকুল নষ্ট না হলে এবার ব্যাপক আমে ফলন হবে বলে আশা করেন আম চাষি বাহাদুর রহমান।
একই উপজেলার ভায়ালক্ষিপুর ইউনিয়নের আম চাষি ও ব্যবসায়ী শামসুল হক বলেন, কিছু কিছু আম গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। আর ১০ দিন গেলে পুরো বাগানের গাছেই মুকুল ফুটে উঠবে। তাই ছোট-বড় আম বাগান পরিচর্যায় সময় ব্যয় করতে হয়। এছাড়াও বাগানের আগাছা পরিষ্কারসহ পোকা দমনে স্প্রে করা হচ্ছে কীটনাশক। এতে পোকা যেমন দূর হবে, তেমনি গাছে দেখা দেবে স্বাস্থ্যকর মুকুল। এতে করে ফলন ভালো হবে বলে আশাবাদী তিনি।
চারঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মামুন জানান, আমের জন্য বিখ্যাত চারঘাট উপজেলায় ৪ হাজার ৯০৩ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। পৌষের শেষের দিকে লক্ষনভোগসহ স্থানীয় জাতের আম গাছে মুকুল আসার এখনই সময়। ফলে চাষিদের বাগান পরিচর্যা, ওষুধ স্প্রে করার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। আর চাষিরাও অধিক ফলনের আশায় সে অনুযায়ী কাজ করছেন।