১৮ বৈশাখ, ১৪৩৩
০২ মে, ২০২৬

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগসহ ৫ দাবি

Admin Published: October 22, 2024, 11:31 pm
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগসহ ৫ দাবি

ডিএনএন ডেস্ক : চলতি সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ, ছাত্রলীগ নিষিদ্ধসহ মোট পাঁচ দফা নতুন দাবি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। মঙ্গলবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে অনুষ্ঠিত গণজমায়েত থেকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। একই সঙ্গে অবিলম্বে এসব দাবি মেনে নেওয়া না হলে শীঘ্রই রাজপথে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, ‘স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা কমিটি’ ব্যানারে বঙ্গভবনের সামনে আন্দোলন বিক্ষোভ সমাবেশ করছেন একদল শিক্ষার্থী। সেখান থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দাবি মেনে নেওয়া না হলে বঙ্গভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনেরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। তবে রাতে কর্মসূচি স্থগিত করে আন্দোলনকারীরা জানান, আজ বুধবার বিকেলে আইন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

এদিকে, মঙ্গলবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ ব্যাপারে প্রধান উপদেষ্টার উপ প্রেস সচিব অপূর্ব জাহাঙ্গীর বলেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিষয়ে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলের মতামতের সঙ্গে একমত পোষণ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। রাষ্ট্রপতিকে সরানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। 

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়ায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে শহীদ মিনারে এই সমাবেশ ডাকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সমাবেশ শুরু হয়। 

সেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলেন, ‘আপনার (রাষ্ট্রপতি) সময় শেষ হয়ে গেছে। ছাত্র-জনতা আর আপনাকে রাষ্ট্রপতি পদে দেখতে চায় না। হয় আপনি পদত্যাগ করুন, না হলে ছাত্র-জনতা বঙ্গভবন ঘেরাও করে শেখ হাসিনার মতো পালাতে বাধ্য করাবে। সব জায়গা থেকে স্বৈরাচারের দোসরদের বিদায় করতে হবে। ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে। ছাত্র-জনতার এই স্পিরিট নতুন বাংলাদেশ গঠনের আগ পর্যন্ত থাকবে উল্লেখ করে তারা বলেন, ’৭২-এর ফ্যাসিবাদী সংবিধান বাতিল করে নতুন সংবিধান প্রণয়নের আগ পর্যন্ত আমরা রাজপথে থাকব। 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমাবেশ থেকে ঘোষিত নতুন পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- (১) অনতিবিলম্বে ’৭২-এর সংবিধান বাতিল করতে হবে। সেই জায়গায় ’২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পক্ষ থেকে নতুন করে সংবিধান লিখতে হবে। (২) এই সপ্তাহের মধ্যে ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। তাদের আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করতে হবে। (৩) এই সপ্তাহের মধ্যে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে পদচ্যুত করতে হবে। (৪) জুলাই বিপ্লব ও গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিটের আলোকে ২৪ পরবর্তী বাংলাদেশ বিনির্মাণে এই সপ্তাহের মধ্যে নতুন করে রূপরেখা প্রণয়ন করতে হবে এবং (৫) ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনকে অবৈধ ঘোষণা করতে হবে। এসব নির্বাচনে যারা নির্বাচিত হয়েছিল তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে। একই সঙ্গে তারা যেন ২৪ পরবতীঁ বাংলাদেশে কোনোভাবেই প্রাসঙ্গিক হতে না পারে এবং নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে সে জন্য আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। 

সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ এই পাঁচ দাবি ঘোষণা করে বলেন, যে শহীদ মিনার থেকে আমরা এক দফা দাবি তুলেছিলাম, সেই শহীদ মিনার থেকে আমরা পাঁচ দফা ঘোষণা দিচ্ছি। এই সপ্তাহের মধ্যে আমাদের পাঁচ দফা দাবি না মানা হলে আমরা আবার রাজপথে নেমে যাব।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনার সময় শেষ হয়ে গেছে। ছাত্র-জনতা আর আপনাকে রাষ্ট্রপতি পদে দেখতে চায় না। হয় আপনি পদতাগ করুন না হলে ছাত্র-জনতা বঙ্গভবন ঘেরাও করে শেখ হাসিনার মতো পালাতে বাধ্য করাবে। ছাত্র-জনতার এই স্পিরিট নতুন বালাদেশ গঠনের আগ পর্যন্ত থাকবে। বাহাত্তরের ফ্যাসিবাদী সংবিধান বাতিল করে নতুন সংবিধান প্রণয়নের আগ পর্যন্ত আমরা রাজপথে থাকব।’

গণজমায়েতে অপর অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, আবারও যদি প্রয়োজন হয় আমরা আমাদের চোখ দিতে প্রস্তুত, পা দিতে প্রস্তুত, হাত দিতে প্রস্তুত, এমনকি জীবন দিতেও প্রস্তুত আছি। ফ্যাসিস্ট দল ছাত্রলীগ যেভাবে আমাদের ভাইদের হত্যা করেছে, তাদের উত্থান সহ্য করা হবে না। রাষ্ট্রপতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কী খেয়ে, কার কথা শুনে, মানসিক অবস্থান কোন পর্যায়ে ও কার চক্রান্তে আপনি বলছেন যে, আপনার কাছে পদত্যাগপত্র নেই? আমরা রাষ্ট্রপতিসহ তাদের দোসরদের একটা কথা স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, আমরা যদি বাংলাদেশে ফ্যাসিস্ট ও খুনিদের কোনো উৎপাত লক্ষ্য করি. ছাত্র-জনতা ৫ আগস্টের মতো ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করবে।

সমাবেশে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা ‘আমাদের সংগ্রাম, চলছে চলবে’; ‘আবু সাঈদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’; ‘অ্যাকশন অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’; ‘আওয়ামী লীগের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’; ‘ছাত্রলীগের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’; ‘স্বৈরাচারের দোসরেরা হুঁশিয়ার সাবধান’; ‘অবৈধ রাষ্ট্রপতি, মানি না মানব না’; ‘আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ কর, করতে হবে’ ইত্যাদি বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

এ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নুসরাত তাবাসসুম, আব্দুল হান্নান, আবু বাকের মজুমদার, রিফাত রশীদ প্রমুখ।