১১ ভাদ্র, ১৪৩৩
২৭ আগস্ট, ২০২৬

বরেন্দ্রের আদিবাসী নারী কৃষকদের বৈষম্য নিরসন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির আহ্বান

Admin Published: February 26, 2026, 5:19 pm
বরেন্দ্রের আদিবাসী নারী কৃষকদের বৈষম্য নিরসন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত অ্যাডভোকেসি সভায় খরা প্রবণ ও পানি সংকটপূর্ণ বরেন্দ্র অঞ্চলের আদিবাসী নারী কৃষি শ্রমিকদের বাস্তবতায় বৈষম্য নিরসন ও সক্ষমতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়েছে।

সভায় বলা হয়, বরেন্দ্র অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে খরা ও পানির স্বল্পতায় ভুগছে। এ অঞ্চলে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর উচ্চ উপস্থিতি রয়েছে এবং অধিকাংশ পরিবার কৃষিনির্ভর জীবিকার ওপর নির্ভরশীল। আনুমানিক ১২ হাজার আদিবাসী নারী কৃষি, শ্রমিক বরেন্দ্রের তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলায় কৃষিকাজে সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন।

বৃহস্পতিবার রাজশাহীর একটি হোটেলের সভাকক্ষে ‘জলবায়ু পরিবর্তন : অভিযোজন উদ্যোগ’ নিয়ে অ্যাডভোকেসি সভার আয়োজন করে এ্যাসোসিয়েশন ফর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট-এসিডি। অক্সফাম ইন বাংলাদেশ’র সহযোগিতায় কাল্টিভেটিং চেঞ্জ কর্মসূচির অধীন অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. দীপকেন্দ্র নাথ দাস।

সভার শুরুতে প্রকল্প সম্পর্কে উপস্থাপন করেন ‘কাল্টিভেটিং চেঞ্জ’ প্রকল্পের সমন্বয়কারী সুব্রত কুমার পাল। সভায় সরকারি কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি, তানোর ও গোদাগাড়ীর আদিবাসী নারী কৃষক, বিভিন্ন সুপার শপের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানের অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফেসর ড. জালাল উদ্দিন সরদার, পরিবেশ অধিদফতরের উপপরিচালক মোছা. তাছমিনা খাতুন ও যুব উন্নয়ন অধিদফতরের উপপরিচালক মো. শরীফুল ইসলাম।

বক্তারা বলেন, নারী কৃষকরা ধান ও সবজি চাষ, চারা রোপণ, আগাছা পরিষ্কার এবং ফসল সংগ্রহসহ উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও ন্যায্য মজুরি ও সামাজিক স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই কাজে পুরুষ শ্রমিকদের তুলনায় কম পারিশ্রমিক পাওয়ার বিষয়টি সভায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।

সভায় আরও জানানো হয়, খরা সহনশীল ফসল চাষ সম্প্রসারণ সময়ের দাবি হলেও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তি ও সেচ সুবিধার অভাবে আদিবাসী নারীরা পিছিয়ে পড়ছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও নীতিগত সহায়তার প্রয়োজন।

সভা থেকে আদিবাসী নারী কৃষিশ্রমিকদের জন্য আলাদা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতকরণ এবং খরা সহনশীল কৃষি সম্প্রসারণে প্রণোদনা প্রদানের আহ্বান জানানো হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছা. তাছমিনা খাতুন বলেন, জলবায়ুর সবচেয়ে বেশী সংকটে নারীরা। তাদের পাশে এবং নারী নেতৃত্বে জলবায়ু সহনশীলতায় ভূমিকা রাখতে, ঐতিহ্যগত কৃষি জ্ঞান কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর ড. দীপকেন্দ্র নাথ দাস বলেন, খরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষকদেরকে ঐতিহ্যগত চাষাবাদ পদ্ধতির সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করতে হবে। তাহলে ফসলের চাষাবাদে ইতিবাচক পরিবর্তন হবে।