ডিএনএন ডেস্ক: সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সেপ্টেম্বর মাসের বরাদ্দ ইতোমধ্যে ডিলারদের দেওয়া হয়েছে। কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অবৈধভাবে সার মজুত, কালোবাজারি কিংবা নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে সার বিক্রির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাজী শহিদুল ইসলাম।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে রাজশাহী নগরের চৌদ্দপাই এলাকার সারের ডিলার মেসার্স মোসলেম মোল্লা এবং পবা উপজেলার কাটাখালীর সমসাদিপুর এলাকার মেসার্স নাহার এন্টারপ্রাইজের গুদাম পরিদর্শন করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী। এ সময় তিনি গুদামে সারের মজুত, সরবরাহ ও বিক্রয় পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহীর উপপরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন, পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এমএ মান্নান।
সারের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, চলতি আগস্ট মাসে রাজশাহীতে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। ডিলারদের মাধ্যমে এসব সার কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। কৃষকদের চাহিদা বিবেচনায় আরও অতিরিক্ত সারের বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, রাজশাহীতে আমন ধান রোপণের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ফলে নন-ইউরিয়া সারের চাহিদা কমেছে। অন্যদিকে আমন ধানে উপরি প্রয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় ইউরিয়া সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। জেলায় বর্তমানে ২ হাজার ৪৬৯ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার মজুত রয়েছে, যা ৪৯ হাজার ৩৮০ বস্তার সমান।
তিনি বলেন, ‘আগামীকাল থেকেই ডিলাররা সেপ্টেম্বর মাসের নির্ধারিত সার উত্তোলন করতে পারবেন। ইতোমধ্যে ডিলারদের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফলে সারের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।’
তিনি আরও বলেন, জেলার প্রতিটি উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কৃষি কর্মকর্তা ও ব্লক সুপারভাইজারদের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে ডিলার পয়েন্ট থেকে কৃষকদের কাছে সার বিক্রি নিশ্চিত করা হচ্ছে। কোনো পর্যায়েই যাতে কৃষকেরা হয়রানি বা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য না হন, সে বিষয়ে প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা নজরদারি করছেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, একজন ডিলার সরকারি বরাদ্দ থেকে কতটুকু সার উত্তোলন করেছেন, কতটুকু গুদামে মজুত রেখেছেন এবং দিন শেষে কতটুকু সার বিক্রি করেছেন—তার হিসাব প্রতিদিন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে। এর মাধ্যমে সার বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হচ্ছে।
তিনি জানান, কালোবাজারি ও অবৈধভাবে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভিজিল্যান্স টিমের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এসব অভিযানে এ পর্যন্ত ১ হাজার ২৯৩ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়েছে। অনিয়মের দায়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানাও আদায় করা হয়েছে।
কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং বাজারে সারের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে উপজেলাগুলোতে মোবাইল কোর্ট ও ভিজিল্যান্স টিমের নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।
তিনি বলেন, কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অবৈধভাবে সার মজুত, কালোবাজারি কিংবা নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে সার বিক্রির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।