৬ বৈশাখ, ১৪৩৩
১৯ এপ্রিল, ২০২৬

বড়ালের বুকে সবুজের সমারোহ

Admin Published: January 21, 2025, 11:36 pm
বড়ালের বুকে সবুজের সমারোহ

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর চারঘাটে পদ্মার শাখা নদী এককালের প্রমত্তা বড়াল এখন অস্তিত্ব হারিয়ে বিস্তীর্ণ ফসলের খেতে পরিনত হয়েছে। বড়ালের বুকে এখন চাষ হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ফসল। 

অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ এবং যাতায়াতের জন্য নদীর বুকে একাধিক ব্রিজ নির্মাণ করে স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া দখলদারদের দখলে দু’পাড় দখল হয়ে গেছে। এক সময়ের খরস্রোত বড়াল আজ শুধুই স্মৃতি হয়ে দাড়িয়েছে।

রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, পদ্মার পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ঠিক রাখতে এবং নাব্য ফিরিয়ে আনতে বড়াল নদীকে ঘিরে সর্বশেষ ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ‘নাটোরের নারদ ও মুসা খান (আংশিক) নদী ও রাজশাহীর চারঘাটের রেগুলেটরের ইনটেক চ্যানেল খনন’ নামে ১৩ কোটি ৩ লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। 

প্রায় ১৯ দশমিক ১০ কিলোমিটার নদী খনন ও প্রবেশ মুখে খনন করতে এই অর্থ ব্যয় হয়। ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে চারঘাট বড়াল নদীর ইনটেক চ্যানেল খনন কাজ শেষ হয়। ইনটেক চ্যানেল খনন কাজ শেষ হলেও তারপর থেকে বর্ষাকালেও বড়ালে পানি আসে নি। এছাড়াও গত বছরের জুলাই মাসে পানি উন্নয়ন বোর্ড বড়ালের উৎস মুখে ৪৫০ মিটার বড়াল পুর্নখনন কাজে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে ৫২ লাখ টাকার কাজ করে। সেই কাজে ব্যাপক অনিয়ম হয়। দায়সারা কাজ করার কারণে খনন করা বালু আবার নদীতে চলে যায় বলে দাবি স্থানীয়দের। ফলে এ প্রকল্পও আলোর মুখ দেখে নি। তবে অপচয় হয়েছে বিপুল সরকারি অর্থের।

জানা গেছে, প্রমত্তা পদ্মা নদীর শাখা নদী হিসাবে বড়াল নদীর উৎপত্তি হয়ে রাজশাহীর চারঘাট, বাঘা, নাটোরের বাগাতিপাড়া, বড়াইগ্রাম; পাবনার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলার মধ্য দিয়ে বাঘাবাড়ি হয়ে হুরা সাগরের বুকে মিশে নাকালিয়ায় যমুনায় পড়েছে। এক সময় যোগাযোগের সুবিধার কারণে বড়াল নদীর দু’পাড়ে গড়ে উঠে চারঘাট বাজার, চারঘাট উপজেলা পরিষদ, চারঘাট মডেল থানা, চারঘাট পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, চারঘাট এমএ হাদী কলেজ, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, আড়ানী বাজার, রুস্তমপুর পশুহাট, পাকা বাজার, জামনগর বাজার, বাঁশবাড়িয়া বাজার, তমালতলা বাজার, বাগাতিপাড়া থানা, দয়ারামপুর সেনানিবাসসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

শরিফুল ইসলাম নামের স্থানীয় এক শিক্ষকস জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড ১৯৮১-৮২ অর্থবছরে নদীর তীরবর্তী উপজেলাগুলো বন্যামুক্ত করার জন্য উৎসমুখ চারঘাটে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে পানির স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ বন্ধ করে দেয়। বিভিন্নস্থানে স্লুইসগেট ও বাঁধ নির্মাণের ফলে ক্রমান্বয়ে বড়াল নদী শুকিয়ে মরা খালে পরিণত হতে থাকে তখন থেকেই। বর্ষায় নদীতে কিছু পানি জমলেও শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই শুকিয়ে মরা নদীতে পরিণত হয়। এবারও তাই হয়েছে। 

এখনন এলাকার কৃষকরা বিস্তীর্ণ নদীর বুকে আবাদ করেন। শুষ্ক মৌসুমে পরিণত হয় গবাদিপশুর চারণক্ষেত্র। এক সময় যে বড়ালের পানিতে নদী তীরবর্তী মানুষ তাদের জমিতে ফসল ফলাত, এখন সে নদীর বুকে অগভীর নলকূপ বসিয়ে হয় ধান চাষ। 

স্থানীয় স্কুল শিক্ষক জাকারিয়া হোসেন জানান, নদীতে পানি না থাকায় এ নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ব্যবসা বাণিজ্যের কেন্দ্রগুলো তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। সেচসহ প্রতিদিনের প্রয়োজনের অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করায় পানির স্তর নেমে যাচ্ছে। এখনই সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করে নদীটি পুনঃখনন করা না হলে বড়াল নদীই একদিন হারিয়ে যাবে মানচিত্র থেকে। 

স্থানীয় জেলেরা জানান, এক সময় এই বড়াল নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করা হলেও এখন আর নদীতে মাছ শিকার করা হয় না। পানি না থাকায় জেলেরা আজ অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। পদ্মার মুখে পলিমাটি জমে পানির প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বড়াল আজ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।