৮ বৈশাখ, ১৪৩৩
২১ এপ্রিল, ২০২৬

পোষ্য কোটাকে প্রতীকী ‘কবর’ দিলেন রাবি শিক্ষার্থীরা

Admin Published: December 9, 2024, 10:10 pm
পোষ্য কোটাকে প্রতীকী ‘কবর’ দিলেন রাবি শিক্ষার্থীরা

রবি প্রতিনিধি :: বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীর সন্তানদের জন্য বরাদ্দকৃত  পোষ্য কোটাকে প্রতীকী ‘কবর’ দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সোমবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের পাশে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে পোষ্য কোটার প্রতীকী মরদেহ দাফন করেন তারা। 


এর আগে বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার মুক্তমঞ্চে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সঙ্গে পোষ্য কোটার যৌক্তিকতা নিয়ে একটি উন্মুক্ত বিতর্কের আয়োজন করেন শিক্ষার্থীরা। বিতর্কে যদি পোষ্য কোটা নিয়ে যৌক্তিকতা দেখাতে পারলে এই কোটা বহাল থাকবে, অন্যথায় এই কোটা বাতিল করতে হবে বলে ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। কিন্তু বিতর্কে কোনো শিক্ষক-কর্মকর্তা অংশ না নেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে তিনজন তাঁদের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন। 


বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে আইন বিভাগের অধ্যাপক মোর্শেদুল ইসলাম, একজন রিকশাচালক ও একজন ব্যবসায়ীকে রাখা হয়। বিতর্কের শুরুতে উভয়পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে চলে যুক্তি খণ্ডন পর্ব। তবে পোষ্য কোটার পক্ষে এ সময় কোনো কার্যকরী যুক্তি তুলে ধরতে পারেননি বিতার্কিকেরা। পরে বিচারকদের রায়ে পোষ্য কোটার বিপক্ষের শিক্ষার্থীরা জয়লাভ করেন। এ সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হওয়া পোষ্য কোটা এই বিশ্ববিদ্যালয়েই কবর দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নেন শিক্ষার্থীরা। পরে শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ সিনেট ভবনের পাশে গিয়ে পোষ্য কোটার প্রতীকী কবর দেন তারা। 


সমাধি শেষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রাবির সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, 'জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আমাদের কাঁধে যেসব শিক্ষকদের হাত ছিল, পোষ্য কোটার আন্দোলনে তাঁরা আমাদের সঙ্গে নেই। জুলাই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল কোটার যৌক্তিক সংস্কার। কিন্তু এখনো যদি পোষ্য কোটা থাকে তাহলে জুলাই বিপ্লবকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হবে। আবু সাঈদসহ সকল শহিদের রক্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হবে। আমাদের আন্দোলন শুধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক নয়, সারাদেশে যত জায়গায় চাকরির ক্ষেত্রে বা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় পোষ্য কোটা রয়েছে তা সমূলে উৎখাত করতে হবে।'


আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী কামরুল হাসান বলেন, 'জুলাই বিপ্লবের পর নতুন বাংলাদেশে প্রশাসন পোষ্য কোটা বাতিলের এই ন্যায্য দাবি মেনে নিবে এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা ছিল। তবে তাঁরা আমাদের এই দাবি না মেনে পোষ্য কোটার মতো একটা অন্যায্য জিনিস ভোগ করে যাচ্ছে। আমরা আজকে গণতান্ত্রিক উপায়ে একটা বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করি। বিতর্কে পোষ্য কোটার পক্ষের প্রতিনিধিরা হেরে যায়। এরপর পোষ্য কোটার কবর রচনা করি।'