২৩ কার্তিক, ১৪৩৩
০৭ নভেম্বর, ২০২৬

কেন্দ্রীয় ছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সব কমিটির কার্যক্রম স্থগিত

Admin Published: July 27, 2025, 11:15 pm
কেন্দ্রীয় ছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সব কমিটির কার্যক্রম স্থগিত

ডিএনএন ডেস্ক: কেন্দ্রীয় কমিটি ছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সারাদেশের সব কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। রোববার রাজধানীর শাহবাগে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন কেন্দ্রীয় নেতারা।বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রিফাত রশিদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, 'অর্গানোগ্রামের (সাংগঠনিক কাঠামো) সিদ্ধান্তে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটি ব্যতীত সারাদেশের সকল কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা হলো।'



তিনি বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যনার ব্যবহার করে নামে-বেনামে অনেক ধরনের অপকর্ম করার চেষ্টা করা হয়েছে এবং হচ্ছে। আমরা যেদিন আত্মপ্রকাশ করি সেদিনই সতর্ক করেছিলমা যে, এই ধরনের কোনোকিছু বরদাস্ত করা হবে না।’ যারা অনৈতিক কাজ করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।


রিফাত রশিদ বলেন, 'বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরবর্তী কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে সে বিষয়ে আমরা বসে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো।'


এর আগে শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের বাসায় গিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন মুন্না, সদস্য মো. সাকাদাউন সিয়াম ও সাদাব এবং বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদের বিরুদ্ধে। পরে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর সংগঠন দুটি থেকে তাদের স্থায়ী বহিস্কার করা হয়। 


এ ঘটনার পর শনিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে গ্রেপ্তার পাঁচজনের ছবিসহ একটি পোস্ট দেন উমামা ফাতেমা। গত বছরের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ছিলেন তিনি। পরে সংগঠনের মুখপাত্র হন। গত মাসে তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ান। পোস্টে উমামা লিখেন, 'এই চাঁদাবাজির খবর দেখে আশেপাশের সবাই এত অবাক হওয়ার ভান করছেন, বিষয়টা কিছুটা হাস্যকর বটে! বলতে হবে, এই প্রথম কোনো চাঁদাবাজি করতে গিয়ে তারা পুলিশের হাতে ধরা খেল। ঠিকমতো খোঁজ নিলে বুঝবেন, এঁদের শেকড় অনেক গভীরে।'


এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে পদত্যাগ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মুরাদনগর উপজেলার মুখপাত্র খাদিজা আক্তার কেয়া। শনিবার বিকেলে তিনি এই ঘোষণা দেন। পোস্টে কেয়া লিখেন, ‘যার জন্য করলাম চুরি, সেই বলে চোর! এটা আমার ক্ষেত্রেই যে প্রযোজ্য হবে না, কে বলল? আপনারা সবাই জানেন আমি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন দায়িত্বশীল কর্মী ছিলাম। কিন্তু আজকের পর থেকে এই আন্দোলনের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’


এসব ঘটনার পর রোববার বিকেলে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে কেন্দ্রীয় কমিটি ছাড়া সারাদেশের সব কমিটির কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা।