স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর বাঘায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয় সহ নিয়োগ বানিজ্যের ২৪ লক্ষ টাকা ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সাথে সহকারী কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারীদের হাতা-হাতি এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় একপক্ষ্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন। মঙ্গলবার উপজেলার হেলালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা সংঘটিত হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ায় অত্র এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার মনিগ্রাম ইউনিয়নের হেলালপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের আয় ব্যয় এবং নিয়োগ বানিজ্যের টাকা ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক এর সাথে সহকারী শিক্ষক জাকির হোসেন, রফিকুল ইসলাম ও আব্দুল আওয়াল-সহ বেশ কিছু শিক্ষক এবং কর্মচারীদের সাথে আগে থেকে দ্বন্দ্ব চলে আসছিলো। সর্বশেষ মঙ্গলবার সকালে বাক বিতন্ডের এক পর্যায় উভয় পক্ষের মধ্যে প্লষ্টিকের চেয়ার তুলে মারপিট ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে সাময়িক ভাবে সবাই কমবেশি হতহতের শিকার হন।
তবে প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক নিয়োগ বানিজ্যের ঘটনা সঠিক নয় দাবি করে বলেন, স্থানীয় কিছু মানুষের ইন্ধনে কয়েকজন শিক্ষক একং কর্মীচারী আমার কাছে প্রায়শ টাকা চাই। আমি টাকা দিতে না চাইলে তারা আমাকে গতকাল হুমকি দেয় এবং আজকে (মঙ্গলবার) স্কুলে এলে তারা আমাকে মারপিট করে স্কুল থেকে বের করে দেয়। তিনি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করবেন বলে জানান।
অপর দিকে সহকারী শিক্ষক জাকির হোসেন,রফিকুল ইসলাম ও আব্দুল আওয়াল-সহ কয়েকজন কর্মচারী জানান ,প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক নিয়োগ বানিজ্য-সহ বিদ্যালয়ের আয় ব্যয় মিলে প্রায় ২৪ লক্ষ টাকার কোন হিসেব কাওকে দেননা। এ দিয়ে গতকাল সোমবার সকালে তার সাথে আমাদের কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর আজকে মঙ্গলবার তিনি বহিরাগত লোকজন সাথে নিয়ে এসে আমাদেরকে মারধর করে। নিরুপায় হয়ে আমরা বিষয়টি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে অবগত করে নির্বাহী অফিসার এর নিকট লিখিত অভিযোগ করেছি।যার সত্যতা স্বীকার করেন মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আ.ফ.মাহমুদুল হানসান।
এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মি আক্তার জানান, সহকারী শিক্ষক ও কর্মচারীরা এসে আমার কাছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্ণীতির অভিযোগ সহ মারধরের বিষয়ে অভিযোগ করে গেছে। বিষয়টি তদন্ত পুর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে মারপিটের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে অত্র এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।