২০ বৈশাখ, ১৪৩৩
০৪ মে, ২০২৬

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস : গ্লোবাল চ্যালেঞ্জে ‘শব্দশ্রমিক’

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস : গ্লোবাল চ্যালেঞ্জে ‘শব্দশ্রমিক’

চাপাইনবাবগঞ্জে এক বিকেলে হঠাৎ হামলার শিকার হন দুই সাংবাদিক। তাদের ক্যামেরা ও নোটবুক মুহূর্তেই পরিণত হয় আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে। কয়েকদিন পর লালমনিরহাটে পশুহাটে অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয়ে প্রশ্ন তোলায় এক সাংবাদিকের ক্যামেরা প্রকাশ্যেই ভেঙে ফেলা হয়। এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়; বরং সত্য অনুসন্ধানের পথ ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠার বাস্তবতার প্রতিফলন।


এই চিত্র কেবল বাংলাদেশের নয়। আফগানিস্তান, ইরান, সিরিয়া, লেবাননসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাংবাদিক নির্যাতন ও দমন-পীড়নের ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। ফলে বৈশ্বিক পরিসরেই মুক্ত গণমাধ্যমের ক্ষেত্র সংকুচিত হচ্ছে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, এ প্রবণতা তথ্যপ্রবাহের স্বাভাবিকতা ব্যাহত করছে এবং সত্য প্রকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে।


বিশ্ব গণমাধ্যম দিবসে তাই প্রশ্ন জাগে—গণমাধ্যম কতটা স্বাধীন, কতটা নিরাপদ? রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (RSF)-এর ২০২৪ সালের সূচকে বাংলাদেশ ১৮০ দেশের মধ্যে ১৪৯তম স্থানে ছিল; সাম্প্রতিক সূচকে আরও অবনতি পরিস্থিতির উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (CPJ) জানায়, দক্ষিণ এশিয়ায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও আইনি চাপ একটি নিয়মিত ঝুঁকি। ইউনেসকো (UNESCO)-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি ১০ জন সাংবাদিকের মধ্যে প্রায় ৮ জন কোনো না কোনোভাবে হুমকি বা হয়রানির শিকার হন।


দেশীয় বাস্তবতায় এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব, স্থানীয় ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং অর্থনৈতিক চাপ। সাংবাদিকরা যেন “নীরব ঝুঁকি” নিয়ে কাজ করছেন—কখনো হামলা, কখনো মামলা, কখনোবা প্রশাসনিক হয়রানির মুখে। এমনকি তুচ্ছ বিষয়ও কখনো সংকটের জন্ম দিচ্ছে, যা মতপ্রকাশের পরিসর সংকুচিত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।


গণমাধ্যমকর্মীরা নিজেদের ‘শব্দশ্রমিক’ হিসেবে পরিচয় দেন। কিন্তু ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিস্টস (IFJ)-এর জরিপ অনুযায়ী, উন্নয়নশীল দেশে প্রায় ৬০% সাংবাদিক অনিরাপদ কর্মপরিবেশে কাজ করেন। বাংলাদেশেও ওয়েজ বোর্ডের সুবিধা সীমিত গোষ্ঠীতে আবদ্ধ, যা পেশাগত বৈষম্য তৈরি করে এবং স্বাধীনতাকে প্রভাবিত করে।


তবুও সাংবাদিকরা কাজ করে যাচ্ছেন—কারণ এটি কেবল পেশা নয়, দায়িত্ব। বিশ্ব গণমাধ্যম দিবসে প্রত্যাশা—নিরাপত্তা, ন্যায্যতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে। কারণ স্বাধীন গণমাধ্যমই পারে সমাজে সত্য প্রতিষ্ঠা করতে।


লেখক: গবেষক, কমিউনিটি কেয়ার ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (ইয়েস ফাউন্ডেশন), বাংলাদেশ