১২ বৈশাখ, ১৪৩৩
২৫ এপ্রিল, ২০২৬

হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন হামলার পরিকল্পনা সাজাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

Admin Published: April 24, 2026, 6:51 pm
হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন হামলার পরিকল্পনা সাজাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ডিএনএন ডেস্ক: যুদ্ধবিরতি ব্যর্থ হলে হরমুজ প্রণালিতে নতুন হামলার পরিকল্পনা করছে মার্কিন সেনাবাহিনী। কৌশলগত জলপথটি ছাড়াও দক্ষিণ আরব উপসাগর এবং ওমান উপসাগরে ইরানের সামরিক সক্ষমতাগুলো লক্ষ্য করে ওই হামলা চালানো হতে পারে।বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র সিএনএনকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে আছে, ইরানের দ্রুতগতির ছোট নৌযান, মাইন পাতার জাহাজ এবং হরমুজ বন্ধ করে রাখার অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম। 



একজন শিপিং ব্রোকারসহ একাধিক সূত্র বলেছেন, শুধু প্রণালির আশপাশে সামরিক হামলা চালালেই জলপথ তাৎক্ষণিকভাবে খুলে যাবে না। অন্য বিকল্প হিসেবে সামরিক কর্মকর্তা এবং হরমুজ বন্ধ রাখার বিষয়ে সোচ্চার কয়েকজন নেতাকে ঘিরেও পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। তালিকায় আছেন বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডার ইন চিফ আহমাদ ভাহিদি। 


নতুন পরিকল্পনার বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘অভিযানের নিরাপত্তার কারণে আমরা কাল্পনিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করি না। মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রেসিডেন্টের কাছে বিভিন্ন বিকল্প তুলে ধরছে। সবগুলোই আলোচনার টেবিলে আছে।’



ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে সর্বোচ্চ নেতাসহ একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর ইরানি সরকার ভেঙে পড়েছে। বৃহস্পতিবার তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেন, আইআরজিসি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত সরকারের অন্য সদস্যদের মধ্যে স্পষ্ট বিভেদ দেখা যাচ্ছে। এটি কূটনৈতিক সমঝোতার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।


ট্রাম্প আরও লিখেন, ‘ইরান এখন বুঝতেই পারছে না তাদের নেতা কে। তারা আসলেই জানে না। কট্টর ও মধ্যপন্থী পক্ষগুলোর মধ্যে যে অন্তর্দ্বন্দ্ব চলছে, সেটা একেবারে পাগলামির পর্যায়ে পৌঁছেছে।’


সূত্রগুলো জানায়, সম্ভাব্য নতুন হামলায় ইরানের অবশিষ্ট সামরিক সক্ষমতাও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। এর মধ্যে আছে ক্ষেপণাস্ত্র, লঞ্চার এবং উৎপাদন কেন্দ্র। গত সপ্তাহে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছিলেন, অবশিষ্ট সামরিক সরঞ্জামগুলো ইরান অন্য কোথাও সরিয়ে নিচ্ছে। তেহরান চুক্তি করতে রাজি না হলে তিনি নতুন ওই স্থানে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন।


একজন মার্কিন কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার জানান, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর ১৯টি জাহাজ আছে। সেগুলোর মধ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরী। এছাড়া, ভারত মহাসাগরে আছে আরও সাতটি জাহাজ। এই বহর ব্যবহার করে গত ১৩ এপ্রিল থেকে সামরিক বাহিনী ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে রেখেছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অন্তত ৩৩টি জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করানো হয়।


মার্কিন বাহিনী অন্তত তিনটি জাহাজে অভিযানও চালিয়েছে। এর দুটি ভারত মহাসাগরে। সবশেষ অভিযান চালানো হয় গত বুধবার রাতে। প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, পতাকাবিহীন জাহাজটি নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত। এতে ইরানের তেল বহন করা হচ্ছিল।