৬ বৈশাখ, ১৪৩৩
১৯ এপ্রিল, ২০২৬

অধ্যক্ষের অপসারণ দাবিতে রাজশাহী নার্সিং কলেজে তালা

Admin Published: January 20, 2025, 6:39 pm
অধ্যক্ষের অপসারণ দাবিতে রাজশাহী নার্সিং কলেজে তালা

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ ফয়েজুর রহমানের অপসারণের দাবিসহ ১২ দফা দাবিতে এবার বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা। গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন সোমবার সকাল থেকেই আরো বেগমান হয়। অধ্যক্ষ পদত্যাগ না করায় ক্ষুদ্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা মেইনগেট, একাডেমি ও প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে ক্যাম্পাস চত্ত্বরে বিক্ষোভ করে।

গেটে তালা দেওয়ায় প্রশাসনিক ভবনের ভিতরে প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা ও ক্যাশিয়ার মাহিদুল ইসলাম বিকেল পর্যন্ত অবরুদ্ধ ছিলেন। 

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, কলেজের অধ্যক্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত, স্বৈরাচারী ও আওয়ামী দোসর। অধ্যক্ষের অনৈতিক ও দুর্নীতিমূলক কার্যকলাপের জন্য কলেজের স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। এ সময় শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের অপসারণসহ ১২ দফা দাবি তুলে ধরেন। তারা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষকে আওয়ামী দোসর হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তারা আগেই অধ্যক্ষের স্বেচ্ছায় পদত্যাগ দাবি করেছিলেন। তিনি পদত্যাগ করেননি বলে কলেজের সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হলো।

প্রসঙ্গত, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত নার্সিং কলেজের তৃতীয় বর্ষের বিএসসি ইন নার্সিং চূড়ান্ত পরীক্ষা গত বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হয়। গত ১৫ জানুয়ারি এ পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, রাজশাহী নার্সিং কলেজের ১৪ জন শিক্ষার্থী কমিউনিটি হেলথ বিষয়ে ফেল করেছেন। ফেল করার বিষয়টি ওই ১৪ জন শিক্ষার্থী জানতে পেরে ১৬ জানুয়ারি কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন। একই সঙ্গে তারা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে অপসারণ দাবি করেন। ধীরে ধীরে এ আন্দোলন এখন চরম আকার ধারণকরেছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এই আন্দোলন ১৭ জুলাই থেকেই শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই কিছু স্বার্থান্বেষী মহল আমাদের এই আওয়ামী দোসরের পদত্যাগের আন্দোলনকে ভিন্ন পথে পরিচালিত করার জন্য নিছক একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আমরা কোনো প্রকার গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

অধ্যক্ষ ফয়েজুর রহমান বলেন, ১৪ জন শিক্ষার্থী যারা ফেল করার পরের দিনই আমার কক্ষে তালা দিয়েছে। আমি তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চেয়েছি। কিন্তু তারা আমার সঙ্গে বসেনি। এখানে বিক্ষোভ করার মতো কোনও কিছু নেই। আর তাদের পাস-ফেলের বিষয়ে আমাদের কোনও হস্তক্ষেপও থাকে না। তারা আগামী ৪০ দিনের মধ্যে ফেল করা বিষয়ে পরীক্ষাও দিতে পারবে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা যা করছেন তা আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক।